গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

মেনু

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার ছয় কারণ চিহ্নিত, শিগগিরই জমা হবে প্রতিবেদন

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ২১:৫৩ পিএম, ২৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২২:৫২ এএম ২০২৬
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার ছয় কারণ চিহ্নিত, শিগগিরই জমা হবে প্রতিবেদন
ছবি

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

একেএম ফজলুল হক: টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় চট্টগ্রাম মহানগরে সৃষ্ট স্থায়ী ও অস্থায়ী জলাবদ্ধতার পেছনে অন্তত ছয়টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ইতোমধ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় একটি কারিগরি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শিগগিরই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে জলাবদ্ধতার কারণের পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে।

সম্প্রতি ৭ থেকে ১১ জুলাই টানা বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ওই সময় চট্টগ্রামে গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এতে কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, আগ্রাবাদ, সিএন্ডবি, মোহরা ও কুয়াইশসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। জনদুর্ভোগ কমাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ১৬টি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মাঠে কাজ করে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগও পানি অপসারণ ও নালা-নর্দমা পরিষ্কারে অংশ নেয়।

প্রকল্প পরিচালক ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী জানান, অনুসন্ধানে জলাবদ্ধতার পেছনে ছয়টি প্রধান কারণ চিহ্নিত হয়েছে। এগুলো হলো-পরিকল্পনা অনুযায়ী জলাধার নির্মাণ না হওয়া, প্রাকৃতিক জলাধার ও ড্রেন ভরাট, জলাভূমি দখল করে আবাসন প্রকল্প নির্মাণ, পরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তা উঁচু না করা, খাল ও পানি চলাচলের পথ দখল এবং ক্রস-কালভার্ট ও সংযোগ চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়া।

তিনি বলেন, বৃষ্টি শুরুর আগেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ায় কাতালগঞ্জ ও কাপাসগোলায় পানি দ্রুত নেমে যায়। এসব এলাকায় পানি জমলেও বৃষ্টি থামার এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল পাম্পিং ও পরিষ্কার কার্যক্রম চালিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়। তবে আগ্রাবাদ, মোহরা ও কুয়াইশে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। আগ্রাবাদে একদিন এবং মোহরা ও কুয়াইশ এলাকায় প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত পানি স্থায়ী ছিল।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিনুল হক বলেন, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হলো পরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তা উঁচু না করা। ২০২২ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও একই উচ্চতায় রাস্তা উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়িত না হওয়ায় কর্ণফুলী নদীতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

সিএন্ডবি ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার পেছনে তিনটি কারণ চিহ্নিত হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রথমত, এলাকার পানি পাশের বিলে যেতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান তিনটি ক্রস-কালভার্টের উভয় পাশের পানি চলাচলের চ্যানেল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, ড্রেন ও নালা দখল করে ঘরবাড়ি, দোকান ও গুদাম নির্মাণের কারণে পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও ড্রেনের ওপর বালির বস্তা ফেলে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে।

তিনি আরো জানান, দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হলে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে কোমরসমান পানি নেমে যায়।

অক্সিজেন-কুয়াইশ এলাকার জলাবদ্ধতা সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক বলেন, অনন্যা আবাসিক এলাকা একসময় প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে কাজ করত। জলাভূমি ভরাট করে আবাসিক প্লট নির্মাণ করায় এলাকার পানি ধারণক্ষমতা নষ্ট হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে বামনশাহী খালের পাশে কয়েকটি জলাধার নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও ব্যয় সংকোচনের কারণে তা বাদ দেওয়া হয়। এসব জলাধার নির্মিত হলে এলাকার অতিরিক্ত পানি সেখানে সংরক্ষণ করা সম্ভব হতো এবং জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যেত।

এছাড়া কুয়াইশ, কৃষ্ণা ও লিংক খাল দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেগুলোর নাব্যতা ও প্রস্থ কমে গেছে। একই সঙ্গে ছোট ছোট খাল দখল হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়েছে। হালদা নদী রক্ষার স্বার্থে কুয়াইশ খালের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হওয়ায় সমস্যাটি আরো জটিল হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী জানান, বর্তমানে পাম্পিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য কুয়াইশ, কৃষ্ণা ও লিংক খালের সংস্কার, নতুন জলাধার নির্মাণ এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধারের সুপারিশ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবিত ৪০টি খাল সংস্কার প্রকল্পে এসব খালকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও পরামর্শ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খাল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, পর্যাপ্ত জলাধার নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার একটি টেকসই সমাধান সম্ভব হবে।
সানা/আপ্র/২৭/৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

বটিয়াঘাটার রেজাউল হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড
২৭ জুলাই ২০২৬

বটিয়াঘাটার রেজাউল হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার আলোচিত রেজাউল শেখ হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মা...

সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় ঘোড়াঘাটে জমি নিবন্ধন কার্যক্রম স্থবির
২৭ জুলাই ২০২৬

সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় ঘোড়াঘাটে জমি নিবন্ধন কার্যক্রম স্থবির

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রারের অনুপস...

আইনজীবী শান্ত হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৪
২৭ জুলাই ২০২৬

আইনজীবী শান্ত হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৪

বাগেরহাটের আলোচিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেফতার...

খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার, আরেকজন আহত
২৭ জুলাই ২০২৬

খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার, আরেকজন আহত

খুলনা মহানগরীতে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই দিনে নগরের অন্য এলাকায় আরেক যুবককে গ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই