সাবেক জেলা ও দায়রা জজ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের সদস্য মো. মাসদার হোসেনের ‘আইনজীবী’ হিসেবে প্রাকটিস করার সনদ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের মামলা করে (বাদী হিসেবে) আলোচনায় উঠে আসেন তিনি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বার কাউন্সিল ভবনে আয়োজিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১২ এপ্রিল দৈনিক কালবেলা পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনজীবী মাসদার হোসেন কর্তৃক মক্কেলের কাছ থেকে সোয়া কোটি টাকা আত্মসাৎ করা সংক্রান্ত সংবাদটি বার কাউন্সিলের গোচরীভূত হয়েছে। উল্লিখিত সংবাদমতে আইনজীবী মাসদার হোসেন ওই বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা ও পেশাগত নৈতিকতার প্রশ্ন বিবেচনায় নিয়ে বার কাউন্সিল আজকের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রাথমিক উপাদান থাকায় সাময়িকভাবে তার সনদ স্থগিত করে তার সনদ কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই অবধি তার সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মূলত মো. মাসদার হোসেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং আইনজীবী। তিনি সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক ‘মাসদার হোসেন মামলা’র বাদী হিসেবে দেশব্যাপী সুপরিচিত। ১৯৯৯ সালে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার লক্ষ্যে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার দাবিতে মামলাটি করেন। এই মামলার রায়ের মাধ্যমেই ২০০৭ সালে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগ পৃথক করা হয়।
মাসদার হোসেন ১৯৮৩ সালে মুনসেফ হিসেবে বিচার বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তবে বর্তমানে তিনি উচ্চ আদালতে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করছিলেন। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
সানা/আপ্র/১৬/৪/২০২৬