সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও অনলাইন বুলিং পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিকে ধ্বংস এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র চলছে।
শুক্রবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রয়াত রাজনীতিবিদ মাহবুবুল হক ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম তারার স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে দেশের রাজনীতি একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘যা খুশি তাই করা হচ্ছে। সমাজের কাছে রাজনীতিবিদদের সবচেয়ে হীন ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। রাজনীতি ধ্বংসের একটি ষড়যন্ত্র চলছে। এই পরিস্থিতি সুস্থ রাজনীতির জন্য শুভ লক্ষণ নয়।’
তিনি বলেন, অনলাইন বুলিংয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। তারা যে ভাষা ও প্রেক্ষাপট ব্যবহার করছে, তা রাজনীতির স্বাভাবিক ধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য যথেষ্ট।
চার মাস আগে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলেও তা এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, চারদিকে সচেতন ও পরিকল্পিতভাবে এমন প্রচেষ্টা চলছে, যার উদ্দেশ্য সবকিছুকে ভেঙে অর্থহীন করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচনের আগের সময় থেকে এবং পরবর্তী সময়েও এ ধরনের অপতৎপরতায় জড়িত রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য দেশে গণতন্ত্রকে দুর্বল করা। এসব ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করে তা মোকাবিলার দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, এমন একটি শক্তির উত্থান দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।’
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, কোনো বিপ্লবী দল নয়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম এবং নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণই দলের রাজনৈতিক পথ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। তিনি মাহবুবুল আলম তারার জনপ্রিয়তা, নেতৃত্বগুণ এবং আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা ছিলেন মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির প্রতীক।
প্রয়াত মাহবুবুল হকের মেয়ে অধ্যাপক জাফরুন নাহারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ, ফেনী জেলা বিএনপির নেতা আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, শেখ ফরিদ বাহার, মেজবাহ উদ্দিন খানসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে দুই প্রয়াত রাজনীতিবিদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ফেনী জেলায় তাঁদের নামে কোনো স্থাপনা বা সড়কের নামকরণের প্রস্তাব দেন। এ প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়ে মির্জা ফখরুল স্থানীয় নেতাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
সানা/আপ্র/৬/৬/২০২৬