সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সরকারি খালের দখল ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার খুঁটিকাটা-কাঠালবাড়িয়া গ্রামের সংক্রান্তির খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি খালটি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার জামায়াতের নেতা-কর্মীরা খালে মাছ ধরতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম (৩৩), বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেন (৬০), বিএনপি কর্মী কবির হোসেন (২৬), জামায়াত-শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদ (৩২), আরাফাত হোসেন (২৭), আক্তার হোসেন (২৬), নাজমা খাতুন (২২), মোমিন মোড়ল (৬৫) ও লায়লা বেগম (৬৫)সহ আরো কয়েকজন। আহতদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াত নেতা শাহিন হোসেনের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি খালে জাল ফেলে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলামের অনুসারীরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের পর হাসপাতালে নেওয়া আহতদের ঘিরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে বিএনপির কয়েকজন কর্মী জামায়াত-শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদকে মারধর করেন।
জামায়াত নেতা শাহিন হোসেন দাবি করেন, খালটির ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নতুন ইজারা না হওয়ায় স্থানীয় দরিদ্র মানুষ মাছ ধরতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম বলেন, তিনি পুনরায় ইজারার জন্য আবেদন করেছেন এবং খালে মাছ চাষ চলমান ছিল। তাঁর অভিযোগ, জামায়াত নেতার নেতৃত্বে রড ও শাবল নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান বলেন, সরকারি খালের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সানা/আপ্র/৬/৬/২০২৬