গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মেনু

প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী

জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী

প্রকাশিত: ২১:১৭ পিএম, ২২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২১:৫৫ এএম ২০২৬
প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ
ছবি

ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য মোছা. রুপালি পারভীন -প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

রাজশাহীর পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত এক নারী সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য।

অভিযোগ উঠেছে, পবা উপজেলার ৫ নম্বর হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত (৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড) মহিলা সদস্য মোছা. রুপালি পারভীন প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জনপ্রতি কয়েক হাজার টাকা নেওয়া হলেও অনেকেই এখন পর্যন্ত সরকারি ভাতার সুবিধা পাননি। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করতে কোনো ধরনের অর্থ দেওয়ার বিধান নেই।

ভুক্তভোগী হিরা ও আলিয়া অভিযোগ করে বলেন, তারা প্রতিবন্ধী হওয়ায় ভাতার কার্ডের জন্য ইউপি সদস্যের কাছে গেলে কার্ড করতে টাকা লাগবে বলে জানানো হয়। পরে তারা ৭ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন, সরকারি নিয়মে এ ধরনের কার্ড করতে কোনো টাকা লাগে না। তারা বলেন, “আমরা দরিদ্র মানুষ। কিছু বুঝতে পারিনি। আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। শুধু প্রতিবন্ধী ভাতা নয়, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় টাকা ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা. রুপালি পারভীন। তিনি বলেন, “আমি প্রায় ১০ বছর ধরে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পবা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, “এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সানা/কেএমএএ/আপ্র/২২/৭/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

গাজীপুরে সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির মৌসুমি ফল উৎসব
২২ জুলাই ২০২৬

গাজীপুরে সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির মৌসুমি ফল উৎসব

মানিক সরকার:  গাজীপুর জেলা সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে মৌসুম...

টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে অবৈধ বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন
২২ জুলাই ২০২৬

টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে অবৈধ বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে মাদক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনতে অবৈধ ব...

খুলনায় উদ্বোধন ‘ক্যাশলেস বটিয়াঘাটা’ কর্মসূচি
২২ জুলাই ২০২৬

খুলনায় উদ্বোধন ‘ক্যাশলেস বটিয়াঘাটা’ কর্মসূচি

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের ধারাবাহিকতায় সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করতে খ...

বকেয়ার চাপে চট্টগ্রাম ওয়াসা, পাওনা ২৪১ কোটি টাকা
২২ জুলাই ২০২৬

বকেয়ার চাপে চট্টগ্রাম ওয়াসা, পাওনা ২৪১ কোটি টাকা

একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম অফিস: দীর্ঘদিনের বকেয়া আদায় করতে না পারায় আর্থিক চাপে পড়েছে চট্টগ্রাম ওয়াস...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

জামায়াত এমপির বিয়ে নিয়ে বিতর্ক, বায়োডাটায় নতুন প্রশ্ন

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে তাঁর দাবিকৃত বিয়ের পাঁচ দিন পর স্বাক্ষর করা একটি বায়োডাটায় ওই তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন যে, এমপির দাবি ন্যায়সঙ্গত?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 6 ঘন্টা আগে