গোপালগঞ্জে আদালত চলাকালীন সময়ে এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীকে পেপার ওয়েট ছুড়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক বিচারকের বিরুদ্ধে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২ এর এজলাসে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আহত শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানা (২৭) গোপালগঞ্জ শহরের কুয়াডাঙ্গা এলাকার অহিদুল কাজীর মেয়ে। তিনি বর্তমানে গোপালগঞ্জ সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নারী সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টার দিকে আদালতের কার্যক্রম চলাকালে বিচারক সুজন মিয়ার এজলাসে ওই ঘটনা ঘটে। এ সময় বিচারকের ছোড়া প্লাস্টিকের তৈরি ভারী পেপার ওয়েটের আঘাতে সাবিহা সুলতানার কপালে জখম হয় এবং রক্তপাত শুরু হয়। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবিহার স্বজনরা জানান, আঘাতের পর তার কপাল থেকে প্রচুর রক্তপাত হয় এবং বমিও হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে তার সিটি স্ক্যান করার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নারী সার্জারি ওয়ার্ডের ১৬ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী খাদিজা আক্তার (লিপি) এবং শিক্ষানবিশ আইনজীবী সানজিদা ইসলাম (সাথী) ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, আদালতের এজলাসে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা অভিযোগ করেন, এর আগেও ওই বিচারক জেলা আইনজীবী সমিতির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ ঘটনায় আহত আইনজীবী সাবিহা সুলতানার চাচাতো ভাই ও গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট সোহাগ সমাজদারও হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে ঘটনার পর কয়েকজন আইনজীবী তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগের বিষয়ে বিচারক সুজন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গোপালগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশিকুজ্জামানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম জুলকদর রহমান বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। তিনি জানান, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত বিচারককে আদালতে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।
সচেতন মহল বলছে, বিচারাঙ্গনে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তা না হলে বিচারপ্রার্থী মানুষের আদালত ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২২/৭/২০২৬