চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলোকেও নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। শুক্রবার সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা হয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। ইরান সেই প্রচেষ্টা প্রতিহত করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, বিভিন্ন দেশের মতো ইরানেরও অভ্যন্তরীণ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এসব চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সেগুলোর সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তাঁর স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতনিও নিহত হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। খামেনির ছেলে ও ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন।
এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালায়। এসব হামলায় কয়েকজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো এখন পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি পাল্টা হামলা না চালালেও ওমান ছাড়া অন্য পাঁচ দেশের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক গত কয়েক মাসে ব্যাপকভাবে অবনতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইরান আপোসমূলক নীতি অব্যাহত রাখবে বলে জানান পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, সব মুসলমান পরস্পরের ভাই এবং শিয়া-সুন্নি নির্বিশেষে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য থাকা উচিত।
আত্মসমর্পণ নয়, লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি: চলমান যুদ্ধে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন পেজেশকিয়ান। তাঁর দাবি, ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাওয়ায় ইরানও লড়াই চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানকে আত্মসমর্পণ করার কোনো কারণ নেই। জোর করে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা করা হলে ইরান লড়াই করবে এবং পিছু হটবে না।
তবে নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে পারলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ইসরায়েলের আশঙ্কা থেকেই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য: সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের টানাপোড়েন নিয়েও কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও তারা যুদ্ধে জড়ায়নি। চীন নিজের স্বার্থ ও উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার কারণেই শক্তিশালী হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পেজেশকিয়ানের ভাষায়, প্রতিটি দেশেরই নিজেদের স্বার্থের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। কখন যুদ্ধ করতে হবে, কখন শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে-এ বিষয়ে বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
সানা/ডিসি/আপ্র/৮/৮/২০২৬