সংঘাতপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় হামলার শিকার হয়।
আমিরাতের সরকারি বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম জানিয়েছে, হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। জাহাজের নাবিকদের কেউ হতাহত হননি।
এর এক দিন আগে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তাদের তেল রপ্তানির পরিমাণ কমে এসেছে। এর মধ্যেই কোম্পানিটির একটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটল।
হরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে: হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার বাঘাই বলেছিলেন, ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচলের নিশ্চয়তা মিলবে না। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে নৌপথটির নিরাপত্তা এখনো বিঘ্নিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ‘খুব শিগগির’ খুলে দেওয়া না হলে ইরানকে ‘ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হতে হবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচলের সুযোগ তৈরি করতে আলোচনা এগিয়েছে। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না এবং এ ধরনের কোনো পরিকল্পনাও নেই। সূত্র: আল-আরাবিয়া
সানা/ডিসি/আপ্র/৮/৮/২০২৬