পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি কয়লা খনিতে মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। খনির গভীরে এখনো অন্তত ১০ শ্রমিক আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার উপকণ্ঠে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ও স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে জানা গেছে, বিস্ফোরণের পর প্রথমে সাতজন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ধসে পড়া খনির বিভিন্ন অংশে অভিযান চালিয়ে আরও ২৫ জনের লাশ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা।
প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, খনি উদ্ধার ইউনিট ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সরকারি খনি পরিদর্শক গনি বালুচ বলেন, “মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণের পর খনির ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা প্রায় শূন্যে নেমে আসে। এ অবস্থায় জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। উদ্ধারকর্মীদেরও খুব সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, ধসে পড়া অংশে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি এবং দুর্বল কাঠামোর কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে উদ্ধার করা মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা শুরু হয়েছে। খনির বাইরে নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবার উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছে। অনেক স্বজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
বেলুচিস্তানের খনি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী শোয়েব নোশেরওয়ানি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি প্রত্যেক পরিবারকে ৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার) আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং প্রদেশের সব কয়লা খনির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
এদিকে খনি শ্রমিকদের সংগঠন পাকিস্তান সেন্ট্রাল মাইনস লেবার ফেডারেশন এ দুর্ঘটনার জন্য খনি মালিকদের অবহেলাকে দায়ী করেছে। সংগঠনটির দাবি, অধিকাংশ খনিতে পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল ব্যবস্থা, গ্যাস শনাক্তকরণ যন্ত্র এবং জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম নেই। তারা নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় হলেও সবচেয়ে অনগ্রসর প্রদেশগুলোর একটি বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই খনি নিরাপত্তা বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপর্যাপ্ত বায়ুচলাচল, আধুনিক গ্যাস পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির অভাব এবং দুর্বল তদারকির কারণে সেখানে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।
তীব্র দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কারণে হাজার হাজার শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এসব খনিতে কাজ করতে বাধ্য হন। শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতেই থাকবে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, পিডিএমএ
সানা/আপ্র/৩১/৭/২০২৬