মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরিকল্পিত শান্তি আলোচনা শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে গেছে। সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (১৯ জুন) নির্ধারিত বৈঠকটি আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এতে অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আলোচনার প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সব সময়ই জটিল ছিল এবং পূর্বানুমানযোগ্য ছিল না। তবে পরিস্থিতি অনুকূল হলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রতিনিধিদল দ্রুতই আলোচনায় যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। বৈঠকটি সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক নামের একটি পার্বত্য অবকাশকেন্দ্রে হওয়ার কথা ছিল।
সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলোচনার স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। ইরানের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে একটি সীমিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের পর তেহরান জানিয়েছিল, তারা কারিগরি আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, আলোচনায় অংশ নেওয়ার আগে অন্তর্বর্তী চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্পষ্ট অগ্রগতি চায় তেহরান। একই সঙ্গে আলোচনার স্থান ও সময় নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল।
মার্কিন কর্মকর্তারা আগে জানিয়েছিলেন, সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা ছিল। তবে ইরান এই আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং জানায়, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে আগেই সই হওয়ায় আলাদা অনুষ্ঠান প্রয়োজন নেই।
গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত শুরু হয়, তাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে ইসরায়েল আলোচনার বাইরে অবস্থান করলেও লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এতে শান্তি প্রক্রিয়া আরো জটিল হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনেও চুক্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের কিছু সদস্য অভিযোগ করছেন, যুদ্ধ থামাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ছাড় দিয়ে ফেলছে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, বৃহত্তর যুদ্ধ এড়াতেই সমঝোতা প্রয়োজন ছিল।
চুক্তির খসড়ায় ইরানের ওপর থেকে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ ছাড় এবং তেল রপ্তানিতে শিথিলতার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা যায়। এর বিনিময়ে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি হয়েছিল।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি জানিয়েছেন, বাহ্যিক চাপের মাধ্যমে তেহরানের নীতিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত দাবি মেনে নেওয়া হবে না।
চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে আলোচনার আকস্মিক স্থগিতাদেশ পুরো প্রক্রিয়াকেই নতুন সংকটে ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ব্যয় বৃদ্ধি, রাজনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা-সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
সানা/আপ্র/১৯/৬/২০২৬