চট্টগ্রাম মহানগরের কাজীর দেউড়ি বাজারে প্রায় ২১ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ ৩১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রোববার (৮ আগস্ট) সকালে বাজারে মাছটি আনার পর এটি দেখতে দোকান ঘিরে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।
মাছটির সঠিক ওজন ২০ কেজি ৮৩৫ গ্রাম। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, হালদা নদী কর্ণফুলী নদীতে যেখানে মিশেছে, সেই এলাকা থেকে মাছটি ধরা হয়। বিশাল আকৃতির মাছটি বাজারে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্রেতা ও মৎস্যপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।
মাছটির আকার এতটাই বড় ছিল যে, ছবি তোলার সময় দুজন দোকানিকে এটি ধরে রাখতে বেশ বেগ পেতে হয়। বাজারে সচরাচর এত বড় কাতলা মাছ দেখা যায় না বলেও জানান স্থানীয়রা।
মাছটির বিক্রেতা মোহাম্মদ কবির হোসেন জানান, রোববার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে জেলেদের বড়শি ও জালের মাধ্যমে মাছটি ধরা পড়ে। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মাছটি সংগ্রহ করে কাজীর দেউড়ি বাজারে নিয়ে আসেন। বাজারে আনার এক ঘণ্টার মধ্যেই মাছটি বিক্রি হয়ে যায়।
বিক্রেতা প্রথমে প্রতি কেজি ১ হাজার ৬০০ টাকা দাম চেয়েছিলেন। পরে দরদাম শেষে প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে মোট ৩১ হাজার ২৫০ টাকায় একজন ক্রেতার কাছে মাছটি বিক্রি করা হয়।
বাজারে মাছ কিনতে আসা স্থানীয় মৎস্যপ্রেমীরা বলেন, হালদা নদীর প্রাকৃতিক মাছের স্বাদ ও ঘ্রাণ অন্য মাছের তুলনায় আলাদা। তার ওপর এত বড় আকারের কাতলা হলে আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। ফলে মাছটি দেখতে বাজারে মানুষের ভিড় হওয়াটা স্বাভাবিক।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কাজীর দেউড়ি বাজারে মাঝেমধ্যেই বড় আকৃতির মিঠাপানি ও লোনা পানির মাছ আসে। বড় মাছের জন্য বাজারটির আলাদা পরিচিতিও রয়েছে। কিছুদিন আগে একই বাজারে ১৫৫ কেজি ওজনের একটি কৈ কোরাল মাছ আনা হয়েছিল। সেটিও কাটার আগেই বিক্রি হয়ে যায়।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বড় আকারের দেশি মাছের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ এখনো যথেষ্ট। বিশেষ করে হালদা ও কর্ণফুলী নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে ধরা প্রাকৃতিক মাছ বাজারে এলে তা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়।
সানা/আপ্র/১০/৮/২০২৬