শিশুশিল্পী হিসেবে মাত্র ৫০০ রুপি পারিশ্রমিক নিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন থালাপতি বিজয়। সেই ছোট্ট পথচলাই আজ তাকে পৌঁছে দিয়েছে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে। দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় এই অভিনেতার রাজনৈতিক উত্থান এখন ভারতের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন করেছে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে)। কংগ্রেস, ভিসিকে, সিপিআই ও সিপিএমের সমর্থনে গঠিত জোট সরকার রোববার (১০ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেয়। টানা চার দিনের নাটকীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর শেষ হয় অনিশ্চয়তা।
সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন টিভিকে প্রধান থালাপতি বিজয়। সিনেমার পর্দায় নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই তারকার রাজনৈতিক যাত্রাও যেন বাস্তবের এক চলচ্চিত্র।
চলচ্চিত্র পরিবারের সন্তান বিজয় ছোটবেলা থেকেই সিনেমার পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখর ছিলেন তামিল চলচ্চিত্রের পরিচিত পরিচালক। বাবার পরিচালিত ১৯৮৪ সালের সিনেমা ‘ভেটরি’ দিয়েই শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে অভিষেক ঘটে বিজয়ের।
এক সাক্ষাৎকারে এস এ চন্দ্রশেখর জানান, ওই ছবিতে অভিনয়ের জন্য বিজয় পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন মাত্র ৫০০ রুপি। তখন হয়তো কেউ কল্পনাও করেননি, সেই ছোট্ট শিশুশিল্পী একদিন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে প্রভাবশালী তারকাদের একজন হয়ে উঠবেন।
চন্দ্রশেখরের দাবি, অনেক আগেই বিজয় তাকে বলেছিলেন- একদিন তিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হবেন। সময়ের সঙ্গে সেই কথাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
মাত্র ৫০০ রুপি থেকে শুরু হওয়া পথচলা এখন পৌঁছেছে আকাশছোঁয়া সাফল্যে। বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজয়ের আলোচিত শেষ সিনেমা ‘জন নায়গন’-এর জন্য তিনি প্রায় ২২০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন।
হিসাব বলছে, শিশুশিল্পী হিসেবে পাওয়া ৫০০ রুপি থেকে বর্তমান ২২০ কোটি রুপির এই উত্থান প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ শতাংশেরও বেশি। ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে এমন বিস্ময়কর সাফল্যের গল্প খুব কমই দেখা যায়।
সানা/ডিসি/আপ্র/১০/৫/২০২৬