গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

মেনু

নায়ক থেকে জননেতা বিজয়ের বিস্ময়কর উত্থান

বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:২৪ পিএম, ০৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ০১:২৩ এএম ২০২৬
নায়ক থেকে জননেতা বিজয়ের বিস্ময়কর উত্থান
ছবি

থালাপতি বিজয়

দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা বিজয়ের পথচলা এখন আর কেবল সিনেমার পর্দায় সীমাবদ্ধ নেই—তিনি ধীরে ধীরে জনতার আবেগ, প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক সম্ভাবনার এক নতুন প্রতীকে পরিণত হচ্ছেন। ‘থালাপতি’ নামে পরিচিত এই অভিনেতার দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা, জনসংযোগ এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব আজ তাকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে—যেখানে একজন নায়ক বাস্তব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছেন।

শৈশব থেকেই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকা বিজয়ের ক্যারিয়ার শুরু হয় শিশু শিল্পী হিসেবে। সময়ের সঙ্গে নিজেকে গড়ে তোলার ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় তিনি হয়ে ওঠেন তামিল সিনেমার অন্যতম শীর্ষ তারকা। তবে তার সাফল্যের বিশেষ দিক হলো—তার অভিনীত চরিত্রগুলো কেবল বিনোদন দেয় না, বরং সমাজের সাধারণ মানুষের সংগ্রাম, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে।

তার চলচ্চিত্রে বারবার দেখা যায় এক ধরনের নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ—একজন সাধারণ মানুষ, যিনি ক্ষমতার বাইরে থেকেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান এবং শেষ পর্যন্ত জনগণের সমর্থনে জয়ী হন। এই ধারাবাহিক চরিত্র নির্মাণই দর্শকের মনে এক ধরনের বাস্তব প্রত্যাশা তৈরি করেছে। ফলে পর্দার নায়ক ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের সম্ভাব্য নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠেন।

বিজয়ের জনপ্রিয়তার বড় শক্তি তার জনসম্পৃক্ততা। তিনি শুধু তারকা নন, বরং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন দীর্ঘদিন ধরে। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড, ভক্তদের সংগঠিত করা এবং জনমুখী বক্তব্য তাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।

এই প্রেক্ষাপটেই তার রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা। তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজগাম নামে নিজের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এটি ছিল না হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত; বরং বহু বছরের জনসম্পর্ক ও জনপ্রিয়তার একটি স্বাভাবিক পরিণতি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের উত্থানকে বুঝতে হলে তার সিনেমার ভাষা ও জনআবেগের সম্পর্ককে বুঝতে হবে। তার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে পরিবর্তনের প্রয়োজন, জনগণের অধিকার এবং সরাসরি অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির ধারণা। তার জনসভাগুলোতে ব্যাপক তরুণ অংশগ্রহণ এবং আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হওয়া এই প্রবণতারই প্রতিফলন।

দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে চলচ্চিত্র তারকাদের প্রভাব নতুন নয়। তবে বিজয়ের অবস্থান কিছুটা আলাদা। যেখানে পূর্বসূরিদের কেউ অতিমানবিক জনপ্রিয়তার প্রতীক, আবার কেউ বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতির প্রতিনিধি—সেখানে বিজয় তৈরি করছেন সহজ, আবেগনির্ভর এবং জনকেন্দ্রিক এক নতুন রাজনৈতিক ভাষা।

সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার দলের সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জরিপ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। যদিও চূড়ান্ত রাজনৈতিক সাফল্য এখনো নির্ধারিত নয়, তবুও তিনি ইতোমধ্যে একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন।

সব মিলিয়ে, বিজয়ের এই যাত্রা কেবল একজন অভিনেতার সাফল্যের গল্প নয়; এটি জনআবেগ, সংস্কৃতি এবং রাজনীতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। পর্দার নায়ক থেকে বাস্তব নেতৃত্বের পথে তার এই অগ্রযাত্রা এখন সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—যার পরিণতি ভবিষ্যতের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সানা/আপ্র/৪/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো আশাবাদী দিল্লি
১৯ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো আশাবাদী দিল্লি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো আশাবাদী নয়াদিল্লি। তবে সফরের নির্দিষ্ট তার...

হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ বললেন ট্রাম্প
১৯ আগস্ট ২০২৬

হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ বললেন ট্রাম্প

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে মানচিত্র প্রকাশ করে...

খাবারের অভাবে এলাকা ছাড়ছে সামুদ্রিক পাখিরা
১৮ আগস্ট ২০২৬

খাবারের অভাবে এলাকা ছাড়ছে সামুদ্রিক পাখিরা

মধ্য আমেরিকার দেশ পানামার রাজধানী পানামা সিটির আকাশে এখন চক্কর দিচ্ছে শত শত সামুদ্রিক পাখি। চিলি ও প...

ইমরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ
১৮ আগস্ট ২০২৬

ইমরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে স্থানান্তরে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বিএনপি সরকারের ছয় মাস: প্রত্যাশা কতটা, প্রাপ্তি কতখানি

আজ ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এর আগে ছয় মাসের কাজের মূল্যায়নে সরকার যেমন বেশ কিছু অর্জনের কথা বলছে, তেমনি বিরোধী রাজনৈতিক দল, অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিকদের প্রশ্নও সামনে এসেছে। সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, ছয় মাসের লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সব কর্মসূচিই পূরণ হয়েছে-কোথাও ৯০, কোথাও ৯৫ এবং কোথাও শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রিয় পাঠক, সরকার ভালো করছে নাকি মন্দ করছে? হ্যাঁ বা না জানান।

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে