ইরানকে উদ্দেশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম অপমানজনক ও অকথ্য ভাষায় দেওয়া এক হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এমন আচরণে উদ্বেগ প্রকাশ করে অনেক মার্কিন রাজনীতিক এখন তাঁর ‘মানসিক সুস্থতা’ নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানান। অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় তিনি লেখেন, ‘হারামির দল, হরমুজ প্রণালি খুলে দাও। নাহলে নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হবে।-শুধু দেখো কী হয়।’
এখানেই শেষ নয়, ইরানের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোতে আরো বড় হামলার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের দিন। এদিন এমন কিছু ঘটবে, যা এর আগে কেউ কোনো দিন দেখেনি। পোস্টের শেষে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর’ কথাটিও যোগ করেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যার মধ্যে ইরানকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা শেষ হচ্ছে। তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই সমুদ্রপথটি গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এখন আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যে ইরান এ পথটি আবার চালু না করলে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ কাজ করছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি আবার চালুর জন্য ইরানকে একের পর এক সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হুমকি দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর এই ক্ষোভের বড় একটি অংশ এখন গিয়ে পড়ছে ইউরোপীয় ও ন্যাটো মিত্রদের ওপর।
কারণ, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালি সংকটে হস্তক্ষেপ করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মিত্রদের এমন অবস্থানে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প এখন উল্টো ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, ইউরোপীয় দেশগুলো এই সংকটে ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা না করে উল্টো বাধা সৃষ্টি করছে। ট্রাম্পের এমন অনমনীয় অবস্থান এবং সামরিক জোট ছেড়ে দেওয়ার হুমকিতে আটলান্টিকের দুই পারের দীর্ঘদিনের সম্পর্কে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক উপপ্রধান মেহেদি তাবাতাবায়ি গত রোববার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত ইরান প্রণালিটি খুলবে না। তিনি বলেন, ট্রানজিট ফির ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এই ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে হবে।
ইরানের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালি সংকট আরো প্রকট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের সময়সীমা এবং ইরানের এই পাল্টা শর্তের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
সানা/ডিসি/আপ্র/৬/৪/২০২৬