গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

১৬ মাসের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি মে’তে ৯.৪২ শতাংশ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৪০ পিএম, ০৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৩৭ এএম ২০২৬
১৬ মাসের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি মে’তে ৯.৪২ শতাংশ
ছবি

ফাইল ছবি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ধারাবাহিকতায় গত মে মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো ঊর্ধ্বমুখী থাকল অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। আগের মাস এপ্রিলে এ হার ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে দশমিক ৩৮ শতাংশীয় পয়েন্ট।

রোববার (৭ জুন) প্রকাশিত বিবিএসের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত-দুই খাতেই মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় বাড়িয়ে সামগ্রিক বাজারে মূল্যচাপ আরো তীব্র করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি খাতে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সাধারণত বহুমাত্রিক হয়। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য পর্যন্ত প্রায় সব খাতেই দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয়। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার মূল্যও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও মে মাসে সেই চাপ আরো বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

টানা দুই মাস মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় থাকলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরো কমে যায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, সবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি পরিবহন, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং অন্যান্য সেবাখাতেও ব্যয় বেড়েছে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলেছে।

বিবিএসের তথ্য বলছে, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই মূল্যচাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর ফলে এটি গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, বাজার তদারকি জোরদার করা, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব কমানো এবং উৎপাদন বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যথায় মূল্যস্ফীতির চাপ আরো দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান দেশের অর্থনীতিতে মূল্যচাপ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
সানা/আপ্র/৭/৬/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

সাইবার হামলার শঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ
২২ অক্টোবর ২০২৬

সাইবার হামলার শঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ

জরুরি সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। পিএইচপি প্র...

সব খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর
২১ অক্টোবর ২০২৬

সব খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের নির্...

বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডে ব্যয় ৯৮৭ কোটি টাকা
২১ অক্টোবর ২০২৬

বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডে ব্যয় ৯৮৭ কোটি টাকা

বিদেশে কেনাকাটা, ভ্রমণ ও বিভিন্ন সেবার মূল্য পরিশোধে বাংলাদেশিদের কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে। গত আগস্টে ব...

পিঠা-পুরির দোকানসহ সব খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হচ্ছে
২১ অক্টোবর ২০২৬

পিঠা-পুরির দোকানসহ সব খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হচ্ছে

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্ধারিত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: প্রধানমন্ত্রী

দেশের বিভিন্ন স্থানে ও কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে পলাতক স্বৈরাচার ও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে তাঁর কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে দাবি করে তিনি বলেছেন, এক পক্ষ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে, অন্য পক্ষ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে