স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার গ্রহণ করতে দেশটির ওবিয়েদো শহরে পৌঁছেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) হাজারো ভক্তের উল্লাস ও করতালির মধ্যে স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছান ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড। প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে শহরে ভিড় জমান ভক্তরা। তাঁদের সঙ্গে ছবি তোলা, জার্সি ও পতাকায় অটোগ্রাফ দেওয়া এবং উপহার গ্রহণের মধ্য দিয়ে সময় কাটান মেসি।
সকাল ৭টার দিকে ওবিয়েদোয় পৌঁছে হোটেল দে লা রেকনকিস্তায় ওঠেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই হোটেলের প্রধান প্রবেশপথ ভক্ত ও সাংবাদিকদের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়। কক্ষে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর কালো আনুষ্ঠানিক পোশাকে বাইরে বেরিয়ে আসেন মেসি। ভক্তদের ভালোবাসা কাছ থেকে অনুভব করতে এগিয়ে যান সীমানাবেষ্টনীর কাছে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও বার্সেলোনার জার্সি, পতাকাসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে অটোগ্রাফ দেন তিনি। ভক্তদের কাছ থেকে উপহারও পান। এর মধ্যে ছিল আর্জেন্টিনার মিষ্টি ও ভুট্টার মাড় দিয়ে তৈরি আলফাখোরেস নামের বিশেষ বিস্কুটের একটি ট্রে।
মেসিকে কাছ থেকে দেখার আগ্রহে শহরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসিকে দেখার সুযোগ পেতে কাজে যেতে না হয়, সে জন্য এক তরুণ ইচ্ছা করে নিজের হাতে আঘাত করেছেন।
দিনের কর্মসূচিতে স্পোর্টস প্যালেসে শিক্ষার্থী শিশু-কিশোরদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে মেসির। সন্ধ্যায় স্পেনের রাজা ও রানির পাশাপাশি পুরস্কারের অন্য বিজয়ীদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেওয়ার সূচিও রয়েছে তাঁর।
শুক্রবারও ব্যস্ত সময় কাটবে আর্জেন্টাইন মহাতারকার। হোটেলে পুরস্কারের অন্য বিজয়ীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি। সেখানে আস্তুরিয়াসের রাজকুমারী লিওনর দে বোরবন ই ওর্তিথ তাঁকে স্মারক পিন উপহার দেবেন। বিকেলে ওবিয়েদোর কাম্পোয়ামোর থিয়েটারে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার গ্রহণ করবেন মেসি।
বর্ণাঢ্য ক্রীড়া ক্যারিয়ারের স্বীকৃতির পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে অসহায় শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবেও এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
পুরস্কারটি নিয়ে নিজের আনন্দের কথা জানিয়েছেন মেসি। বিশেষ করে তাঁর প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসির কথা স্মরণ করেছেন তিনি। কয়েক মাস আগে মারা যাওয়া বাবা এই পুরস্কার নিয়ে খুবই রোমাঞ্চিত ছিলেন বলে জানান আর্জেন্টাইন তারকা।
মেসি বলেন, “সত্যি বলতে, আমি খুব খুশি। আসলে, এই পুরস্কার নিয়ে আমার বাবা খুবই রোমাঞ্চিত ছিলেন। আমার অনেক ম্যাচের কারণে এখানে আসা কঠিন হবে, সেটা আমরা জানতাম। কিন্তু বাবা বারবার জোর দিচ্ছিলেন, যেন আমরা আসি এবং আমি এখানে এসে এই কটা দিন কাটাই ও পুরস্কারটি গ্রহণ করি।
“একজন মানুষ মাঠে যা করে কিংবা পেশাদার ক্যারিয়ারে আমি যা করেছি, এই পুরস্কার তার চেয়েও বেশি কিছুর স্বীকৃতি। সত্যি বলতে, আমি এই স্বীকৃতি পেলে তিনি খুব খুশি হতেন। তাই আমি নিশ্চিত, তিনিও এখন এটি উপভোগ করছেন।”
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা মেসির। সেখানে শনিবার মেজর লিগ সকারে নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে খেলবে তাঁর ক্লাব ইন্টার মায়ামি।
সানা/আপ্র/২৩/১০/২০২৬