‘আপু কেমন আছেন’ বলেই মায়ের সামনে গৃহবধূ খুশির (২৪) মাথায় পর পর দুটি গুলি করে মোটরসাইকেলে চড়ে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন জিন্নাহপাড়ার বউবাজার এলাকার সাত নম্বর গলিতে এ ঘটনা ঘটে। তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
নিহত খুশি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী।
পুলিশের এক কর্মকর্তার ধারণা, মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার কারণ নিশ্চিত করা হয়নি।
লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানান, দুর্বৃত্তদের হামলায় গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন খুশি। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তিনি জানান, নিহতের স্বামী সুমন সরদার ‘ব্লেড বাবু’ নামে পরিচিত। তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে ।
কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার (সদর) মোহাম্মদ শাকিলুজ্জামান বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। কী কারণে একজন নারীকে এভাবে হত্যা করা হলো, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হামলাকারীরা কীভাবে ঘটনাস্থলে এসেছিল, হত্যার পর কোন পথে পালিয়েছে এবং এ ঘটনায় পূর্ববিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।
এদিকে একই দিন ভোরে খুলনা মহানগরীর সদর থানাধীন মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় মো. তুষার (২৭) নামের পলাশ গ্রুপের এক সদস্যকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলে নম্বরপ্লেটবিহীন কালো রঙের একটি আর১৫ মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে।
নিহত তুষার নগরীর লবণচরা থানাধীন জিন্নাহপাড়ার আট নম্বর গলির বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুর রাজ্জাক। পুলিশ জানিয়েছে, তুষারের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে করা মামলাসহ দুটি মামলা রয়েছে।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন বলেন, তুষার সন্ত্রাসী বাহিনী পলাশ গ্রুপের সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অন্তত দুটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে, যার একটি অস্ত্র আইনে করা হয়েছে।
কেএমএএ/আপ্র/২২.১০.২০২৬