গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে গ্রেফতার সাতজনের পাঁচজন সরকারি কর্মচারী

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:২১ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০৩:৩০ এএম ২০২৬
যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে গ্রেফতার সাতজনের পাঁচজন সরকারি কর্মচারী
ছবি

শুক্রবার বিকেলে কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেফতার সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই সরকারি কর্মচারী -ছবি সংগৃৃহীত

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেফতার সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই সরকারি কর্মচারী। পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্য পেয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট দল। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়ক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক রয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প, ব্যাংক চেক, সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

তিনি বলেন, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ পরীক্ষায় মোট ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও ওই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩), মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০) এবং এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮)।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, ১৪ অক্টোবর মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান থেকে ইমদাদুল ইসলাম এবং এসআরবি-৪-এর সহায়তায় মিরপুর-১০ এলাকা থেকে আসাদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন ও বার্তা পর্যালোচনা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর সাভার থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করে এসআরবি-৪। পরে তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ১৬ অক্টোবর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গ্রেফতারদের মোবাইল ফোনের বার্তা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাঁকে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পাঠান। এরপর নূর মোহাম্মদ প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। পরে চক্রের সদস্য ও তাঁদের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ও উত্তর পৌঁছে দেওয়া হয়। এ কাজে আসাদুল, রুবেল, মফিজুল ও সুজন যুক্ত ছিলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত।

প্রশ্নপত্রের মূল উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, নূর মোহাম্মদ সকালে কার কাছ থেকে প্রশ্নপত্র পেয়েছিলেন, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। নূর মোহাম্মদ ও জাহাঙ্গীর দাবি করেছেন, তাঁরা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পেয়েছেন। তবে তাঁদের দেওয়া তথ্যকে এখনো নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছে না তদন্ত দল। তাঁদের উল্লেখ করা ফেসবুকের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতেও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত কি না, জানতে চাইলে এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক বলেন, এখন পর্যন্ত ওই অধিদপ্তরের কারও সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আরো তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, ৫০ টাকার চারটি স্ট্যাম্প, প্রশ্নপত্রের এক সেট, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ১৯ পাতা, ১০টি সনদপত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮ পাতা ও একটি ব্যাংক চেক, আটটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন শ্রেণির ১৫টি সনদপত্র, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নগদ চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, চক্রের এক সদস্যের কাছ থেকে প্রতারিত হওয়ার পর মফিজুল ইসলাম আরো বেশি অর্থ উপার্জনের আশায় চক্রটির সঙ্গে যুক্ত হন। এ ছাড়া ভর্তি-বাণিজ্যসংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
সানা/আপ্র/১৭/১০/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

জয়দেবপুর রেলওয়ে ফাঁড়িতে সশস্ত্র হামলায় পুলিশের দুই সদস্য আহত
১৫ অক্টোবর ২০২৬

জয়দেবপুর রেলওয়ে ফাঁড়িতে সশস্ত্র হামলায় পুলিশের দুই সদস্য আহত

গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে মাদক মামলায় আটক দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিতে সশস্ত্র হামলার...

স্ত্রীর সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা নিয়ে সন্দেহ, হত্যার পর পালাতে গিয়ে গ্রেফতার
১৩ অক্টোবর ২০২৬

স্ত্রীর সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা নিয়ে সন্দেহ, হত্যার পর পালাতে গিয়ে গ্রেফতার

স্ত্রীর মুঠোফোনে সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা নিয়ে সন্দেহ থেকে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী বীথি আক্তারকে...

শাহজালালে আচারের বয়ামে দুই কোটি ৭০ লাখ টাকার মূল্যবান পাথর-স্বর্ণ
১১ অক্টোবর ২০২৬

শাহজালালে আচারের বয়ামে দুই কোটি ৭০ লাখ টাকার মূল্যবান পাথর-স্বর্ণ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আচারের বয়ামের ভেতর থেকে হীরা, প্লাটিনাম, রুবি, স্বর্ণালংকার ও...

পরীক্ষায় পাস ও বিদেশে চাকরির প্রলোভনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়
১০ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষায় পাস ও বিদেশে চাকরির প্রলোভনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়

বিদেশে চাকরি, কর্মী ভিসা ও লিখিত পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে রাজধান...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে