হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। এটি বিশ্বজ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। নৌপথটি দীর্ঘ সময় বন্ধ হলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেলসংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশীয় উদীয়মান অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে বড় প্রভাব পাবে।
তেলের বাজারে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। এর প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ, পারস্য উপসাগরে বহু তেলবাহী ট্যাংকার আটকা পড়েছে।
সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত, বিকল্প পথ সীমিত: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য আঞ্চলিক উৎপাদকেরা সীমিত পরিমাণে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিকল্প সরবরাহ চালাতে পারে। তবে তা তেলের দামের চাপ কমাতে যথেষ্ট নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, চড়া দাম ও মূল্যস্ফীতি এশিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধাক্কা দিতে পারে।
ইতিহাসের তুলনায় সংকটের মাত্রা চার গুণ বেশি: ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধ, ১৯৭৮ সালের ইরানের ইসলামী বিপ্লব বা ১৯৮০ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের তুলনায় হরমুজ প্রণালির সম্ভাব্য অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে চার গুণ বেশি ধাক্কা দিতে পারে। এর অর্থ প্রতিদিন দুই কোটি ব্যারেল তেল ঘাটতি হবে, যা পূর্বের যেকোনো সংকটকে হার মানাবে।
বিশ্বজ্বালানি নিরাপত্তায় সংকীর্ণ নৌপথের ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। এর দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ হলে শুধু সরবরাহ নয়, দাম বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে।
সানা/আপ্র/৯/৩/২০২৬