মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনে ফের তীব্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন শিশুস্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে ভবনটির একটি প্রবেশপথের প্রথম তলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত অংশ ধসে পড়ে এবং অনেক বাসিন্দা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
খারকিভের মেয়র ইগর তেরেখভ জানান, নিহতদের মধ্যে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও তার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া ছেলে রয়েছে। এছাড়া ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী এবং তার মা-ও নিহত হয়েছেন। হামলায় অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবারও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালিয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আরো কয়েকজন বাসিন্দা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা থাকতে পারেন।
খারকিভ আঞ্চলিক প্রসিকিউটর দপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে রাশিয়া এই হামলায় ইজদেলিয়ে-৩০ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ঘটনাটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, খারকিভে হামলার পাশাপাশি রাতভর ইউক্রেনজুড়ে আরো বিস্তৃত আক্রমণ চালিয়েছে রাশিয়া। এতে মোট ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রায় ৪৮০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। লক্ষ্যবস্তু ছিল কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা।
তবে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৯টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৫৩টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হামলাকে ‘নির্মম আঘাত’ উল্লেখ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরো শক্তিশালী করতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা
এসি/০৮/০৩/২০২৬