যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, গতকাল (শনিবার) ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং তা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
তিনি আরো লেখেন, ‘আজ আমরা তাদের এমন শক্তিতে আঘাত করব, যা তারা আগে কখনও দেখেনি।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই ধরনের সতর্কবার্তা দেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি আগের চেয়ে কঠোর হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও ‘অভূতপূর্ব শক্তিতে’ জবাব দেবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ ঘাঁটিতে হামলার ঘোষণা: ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ষষ্ঠ দফার হামলা শুরু করেছে। তাদের দাবি, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি সামরিক ঘাঁটিতে ‘বৃহৎ পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন’ হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে-ইসরায়েলের তেল নোফ বিমানঘাঁটি, তেল আবিবের হাকিরিয়া এলাকায় সেনাবাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর এবং একটি বড় প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্স। আইআরজিসি বলেছে, ইরানিদের প্রতিশোধের হাত থেকে তারা রেহাই পাবে না।
সাইপ্রাসের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র, বাহরাইনে ব্রিটিশ সেনার নিকটে আঘাত: ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলে জানিয়েছেন, ইরান থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সাইপ্রাসের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছে, যেখানে হাজারো ব্রিটিশ সেনা অবস্থান করছে। যদিও সেগুলো সরাসরি সাইপ্রাসকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল কি না-তা নিশ্চিত নয়। তিনি আরো বলেন, শনিবার ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র বাহরাইনে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনাদের কয়েকশ মিটার দূরত্বে আঘাত হানে।
আমিরাতে ১৩৭ ক্ষেপণাস্ত্র, ২০৯ ড্রোন: সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত ইরান দেশটিতে ১৩৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২০৯টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। অধিকাংশই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বংস করা সম্ভব হলেও কয়েকটি আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত একজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। বিশ্বের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দুবাই বিমানবন্দরেও ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আবুধাবির দক্ষিণে আল দাফরা বিমানঘাঁটি ও দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দর যৌথভাবে ব্যবহার করে আমিরাত ও মার্কিন সেনাবাহিনী।
আইআরজিসির শোক ও প্রতিশোধের অঙ্গীকার: আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি। তার শাহাদাত প্রমাণ করে, শত্রুরা তার বৈধতা ও সেবার স্বীকৃতি দিয়েছে।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দেশীয় ও বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় তারা অটল থাকবে এবং প্রতিশোধ অবশ্যম্ভাবী।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে আঘাত এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় পরিস্থিতি দ্রুতই পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে-এমন আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো হচ্ছে।
সানা/আপ্র/১/৩/২০২৬