মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করেছে, চীন নিঃশব্দে নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুনে চীনের লোপ নুর পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্রে একটি গোপন বিস্ফোরণ চালানো হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ক্ষুদ্রাকৃতির পারমাণবিক অস্ত্র উৎপন্ন করা।
মার্কিন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেইজিং এই পদক্ষেপে নিজের পারমাণবিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমকক্ষ করার চেষ্টা করছে। নতুন অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে স্বল্প-পাল্লার ও কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র, যা সম্ভাব্য তাইওয়ান সংকটে ব্যবহারযোগ্য।
পেন্টাগনের মতে, চীনের পারমাণবিক আধুনিকায়ন তাদের সামরিক প্রভাব বাড়াবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে চাপের মধ্যে রাখবে। তবে চীনা দূতাবাস অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলেছে, চীন এখনও “আগে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করা” নীতিতে অটল রয়েছে।
পারমাণবিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের কাছে প্রাসঙ্গিক তথ্য সীমিত; তাই আধুনিক অস্ত্র তৈরি করতে গোপন পরীক্ষা করা হচ্ছে। ২০২০ সালের বিস্ফোরণের সিসমিক মাত্রা ছিল ২.৭৫, যা একজন পারমাণবিক প্রকৌশলীর মতে খনি বিস্ফোরণ নয়, বরং সুনির্দিষ্ট পারমাণবিক পরীক্ষা।
আসন্ন এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সফরে যাচ্ছেন; এই সময়ের মধ্যে এই তথ্য প্রকাশের গুরুত্ব বিশেষ। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের দ্রুত পারমাণবিক সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামোতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৩/২/২০২৬