কর্মীদের জন্য টেবিলে সাজানো ছিল মোড়কবন্দী উপহারের বাক্স। যে যার পছন্দমতো একটি বাক্স বেছে নিচ্ছেন। বাক্স খুলে কেউ পেলেন নতুন আইফোন, আবার কারও হাতে এল শুধু একটি চকোলেট বার। শুরুতে মনে হলো, উপহারের ভাগ্যে বুঝি সবার সমান সৌভাগ্য জোটেনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই এল আসল চমক - যাঁরা চকোলেট পেয়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের হাতেও তুলে দেওয়া হলো নতুন আইফোন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কেরালা বংশোদ্ভূত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিশাদ হুসেন কর্মীদের এমন উপহার দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, নিশাদ নিজেই কর্মীদের উপহারের বাক্স বেছে নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছেন।
ভিডিওর শুরুতে কর্মীদের উদ্দেশে কিছু নির্দেশনা দেন তিনি। এরপর একে একে কর্মীরা বাক্স খুলতে থাকেন। কারও বাক্সে আইফোন, আবার কারও বাক্সে চকোলেট দেখে পরিস্থিতি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। তবে কিছুক্ষণ পর অন্য এক কর্মী এসে চকোলেট পাওয়া কর্মীদের হাতে আইফোন তুলে দেন। শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক কর্মীর হাতেই পৌঁছে যায় নতুন আইফোন।
কর্মীদের এমন চমক দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে তাঁদের অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন নিশাদ। তিনি বলেন, কর্মীদের নিষ্ঠা, ইতিবাচক মনোভাব এবং সম্মিলিত শক্তিই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানোর মূল কারণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া বার্তায় নিশাদ বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি বিশ্বাস করেন, প্রকৃত সাফল্য আসে কর্মীদের নিষ্ঠা, ইতিবাচক মনোভাব ও সম্মিলিত শক্তি থেকে। প্রতিটি প্রচেষ্টা, ধারণা ও অবদান প্রতিষ্ঠানকে সামনে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকের নিজের সম্ভাবনার ওপর বিশ্বাস রাখা, বেড়ে ওঠার প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগানো এবং একে অপরকে সহযোগিতা করে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে মান উন্নত করা, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বড় অর্জনের জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
নিশাদের ভাষায়, প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মানুষ এবং সেই সম্ভাবনা অসীম।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অল্প সময়েই এটি ২৪ লাখের বেশি বার দেখা হয়। কর্মীদের প্রতি এমন উদারতার জন্য অনেক ব্যবহারকারী নিশাদের প্রশংসা করেন। কেউ কেউ আবার রসিকতা করে জানান, এমন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পেলে তাঁরাও যোগ দিতে আগ্রহী।
এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, তাঁর বস নাকি এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি বলে দাবি করছেন। আরেকজন জানতে চান, প্রতিষ্ঠানে কোনো পদ খালি আছে কি না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রসিকতা বাদ দিলে কর্মীদের জন্য এটি সত্যিই চমৎকার একটি উদ্যোগ। সূত্র: এনডিটিভি
সানা/ডিসি/আপ্র/২৮/৯/২০২৬