গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ডিএনএ মিলিয়ে জানা গেল দুই বন্ধু আসলে দুই বোন

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৫৬ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪১ এএম ২০২৬
ডিএনএ মিলিয়ে জানা গেল দুই বন্ধু আসলে দুই বোন
ছবি

মিনা ও মিনালের জন্ম ভারতের মুম্বাইয়ে, ১৯৮০-এর দশকে -ছবি বিবিসি

নেদারল্যান্ডসের মিনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল টিসেনের বন্ধুত্বের গল্প শুরু হয়েছিল কৈশোরে। প্রথম দেখায় দুজনের চেহারা ও অঙ্গভঙ্গিতে অদ্ভুত মিল দেখে নিজেরাই বিস্মিত হয়েছিলেন। তখন তাঁরা জানতেন না, এই বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে আছে আরো গভীর এক রক্তের সম্পর্ক। প্রায় চার দশক পর ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল, তাঁরা আসলে দুই বোন।

মিনা ও মিনালের জন্ম ভারতের মুম্বাইয়ে, ১৯৮০-এর দশকে। জন্মের কয়েক মাস পর মুম্বাইয়ের দুটি আলাদা এতিমখানা থেকে তাঁদের দত্তক নেয় নেদারল্যান্ডসের দুটি পরিবার। এরপর তাঁরা বেড়ে ওঠেন আলাদা পরিবারে, আলাদা পরিবেশে।

কিশোরী বয়সে একটি অনুষ্ঠানে তাঁদের প্রথম পরিচয়। প্রথম দেখাতেই দুজনের মধ্যে অদ্ভুত এক টান তৈরি হয়। চেহারা ও অঙ্গভঙ্গির মিল দেখে তাঁরাও অবাক হয়ে যান। পরে টেলিফোন নম্বর ও ঠিকানা বিনিময় করেন। দীর্ঘদিন তাঁরা একে অপরকে চিঠি লিখেছেন এবং ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

৪৩ বছর বয়সী মিনা সেদিনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘বন্ধুরা আমাদের দেখে বলেছিল, “তোমরা আয়নায় নিজেদের দেখো।” এবং আয়নায় দেখার পর আমার মনে হলো, হে ঈশ্বর, ওর কাছে তো দেখি আমার নাকটা! আমাদের হাসিও এক।’

তবে সময়ের সঙ্গে দুজনের ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তাঁদের যোগাযোগও কমে যায়। প্রায় ১৫ বছর আগে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তাঁরা। পরে মিনাল নেদারল্যান্ডস ছেড়ে ফ্রান্সে চলে যান।

এরপর ২০১৭ সালে ভারত থেকে শিশু বয়সে দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের একটি অনুষ্ঠানে ডিএনএ পরীক্ষার বিষয়ে জানতে পারেন মিনা। নিজের জন্মপরিচয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে তিনি ডিএনএ পরীক্ষা করান। কিন্তু তখন কারও সঙ্গে তাঁর ডিএনএর কোনো মিল পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে ফোনের জায়গা খালি করতে তিনি ডিএনএ শনাক্তের অ্যাপটিও মুছে দেন।

এরপর কেটে যায় কয়েক বছর। গত ২০ মে হঠাৎ ফেসবুকে মিনালের কাছ থেকে একটি বার্তা পান মিনা। বার্তায় লেখা ছিল, ‘আমাকে মনে আছে?’

এই একটি বার্তাই বদলে দেয় তাঁদের জীবনের গল্প।

মিনা আবার ফোনে ডিএনএ শনাক্তের অ্যাপটি ইনস্টল করেন। কিন্তু এতটাই নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন যে অ্যাপটি খুলতে গিয়ে ১০ বার পাসওয়ার্ড ভুল করেন। শেষ পর্যন্ত অ্যাপটি খুলে যে ফলাফল দেখলেন, তা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।

ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে একজনের সঙ্গে তাঁর ১০০ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে। সেই ব্যক্তি আর কেউ নন, ৪৪ বছর বয়সী মিনাল।

অর্থাৎ কৈশোরে যে মেয়েটিকে মিনা নিজের মতো দেখতে এক অচেনা বন্ধু হিসেবে পেয়েছিলেন, তিনি আসলে তাঁরই বোন।

গত আগস্টে মিনা ও মিনালের প্রথম দেখা হয় দুই বন্ধু হিসেবে নয়, দুই বোন হিসেবে। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর সেই সাক্ষাৎ তাঁদের জীবনের হারিয়ে যাওয়া এক অধ্যায়ের যেন নতুন করে সূচনা করেছে। সূত্র: বিবিসি
সানা/ডিসি/আপ্র/১৪/৯/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

রিয়াদ বিমানবন্দরে আবার হামলা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত
১২ অক্টোবর ২০২৬

রিয়াদ বিমানবন্দরে আবার হামলা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আবারো হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি নেত...

রাখে আল্লাহ মারে কে?
১২ অক্টোবর ২০২৬

রাখে আল্লাহ মারে কে?

বিষাক্ত ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, ফের কারাগারে ক্রিস্টিয়া

জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবিতে ১০৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু
১২ অক্টোবর ২০২৬

জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবিতে ১০৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

আফ্রিকার দেশ জিবুতি থেকে ইয়েমেন যাওয়ার পথে প্রায় ৩৫০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন...

মুক্তি পেয়ে ধ্রুব রাঠীর দাবি, ‘আমাকে অপহরণ করা হয়’
১২ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তি পেয়ে ধ্রুব রাঠীর দাবি, ‘আমাকে অপহরণ করা হয়’

আটকের প্রায় এক দিন পর মুক্তি পেয়ে নিজেকে অপহরণের শিকার বলে দাবি করেছেন ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

অটোরিকশার দাবির পক্ষে বলা নেতার আছে ৭০০ বাহন

অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, জনগণের কাছে বারবার খোলস বদলে পার পাওয়া যাবে না। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারে জুলাইয়ের চিত্রাঙ্কন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাত শ অটোরিকশা থাকার অভিযোগকে কাল্পনিক, অসত্য ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চেয়েছে দলটি| প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রশাসক সত্য বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে