দীর্ঘদিন ছিলেন রাজনীতির আলোচিত মুখ। নানা ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রীত্ব ছাড়েন তিনি। এরপর থেকে তিনি ব্যক্তিগত জীবন যাপন করছেন। আলোচনায় আছেন পপস্টার কেটি পেরির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে।
এবার যেন জীবনের নতুন অধ্যায়ের দিকে পা বাড়াচ্ছেন জাস্টিন ট্রুডো। রাজনীতির মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর চলচ্চিত্র ও বিনোদন জগতে তার নতুন করে সম্পৃক্ততার আভাস মিলছে।
সম্প্রতি টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জমকালো আয়োজনে লালগালিচায় উপস্থিত হয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন কানাডার সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, প্রযোজক ও বিনোদন অঙ্গনের তারকাদের ভিড়ে ট্রুডোর উপস্থিতি কৌতূহল তৈরি করেছে।
টরন্টোর অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ট্রুডোর উপস্থিতিকে শুধু আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। রাজনীতি থেকে বিদায়ের পর চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনে তার নতুন যাত্রার সম্ভাবনার সঙ্গেও বিষয়টিকে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি ‘হোপ অ্যান্ড হার্ড ওয়ার্ক’ নামে একটি গণমাধ্যম ও বিনোদন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চালুর ঘোষণা দিয়েছেন ট্রুডো। এই উদ্যোগের মাধ্যমে চলচ্চিত্র ও বিনোদনধর্মী বিষয়বস্তু তৈরির পাশাপাশি সৃজনশীল শিল্পের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া ট্রুডোর জন্য এটি নিঃসন্দেহে ভিন্ন এক অধ্যায়। এতদিন যেখানে রাজনৈতিক বক্তব্য, কূটনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা ছিল তার পরিচয়ের বড় অংশ, এবার সেখানে সৃজনশীল কাজ ও বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা সামনে এসেছে।
চলচ্চিত্র উৎসবে লালগালিচায় তার উপস্থিতি সেই জল্পনাকেই আরো উসকে দিয়েছে। তবে বিনোদন জগতে ট্রুডোর সম্পৃক্ততা ঠিক কতটা বিস্তৃত হবে, তিনি প্রযোজনার পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণ বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে যুক্ত হবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তবু টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তার উপস্থিতি যেন একটি বার্তাই দিচ্ছে যে রাজনীতির অধ্যায় পেছনে ফেলে ট্রুডো এবার ক্যামেরার পেছনের জগতে নতুন পরিচয়ে নিজেকে আবিষ্কার করতে চাইছেন।
এসি/আপ্র/১৪/০৯/২০২৬