গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি নির্বাচনে নতুন নিয়ম

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:১৯ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০৩:৩২ এএম ২০২৬
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি নির্বাচনে নতুন নিয়ম
ছবি

ছবি সংগৃহীত

দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি নির্বাচনের নিয়মে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সভাপতি নির্বাচন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিছু সংশোধন ও পরিবর্তন এনে খসড়া প্রবিধানমালা তৈরি করা হয়েছে। এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।

খসড়া প্রবিধানমালা অনুযায়ী, ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি এবং কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তারাও সভাপতি প্রার্থী হতে পারবেন। সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি বহাল রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদনের পর প্রবিধানমালার সংশোধনী চূড়ান্ত করা হবে।

যেভাবে হবে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন

প্রস্তাবিত প্রবিধান অনুযায়ী, ম্যানেজিং কমিটির বিভিন্ন শ্রেণির সদস্য পদে আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সদস্য নির্বাচন শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে সভাপতির নির্বাচনের জন্য সভা আহ্বান করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন। উপস্থিত নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন।

তবে সভাপতি নির্বাচনের সভায় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একাধিক প্রার্থী সমান সর্বোচ্চ ভোট পেলে তাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছে।

পদত্যাগ, মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে সভাপতির পদ শূন্য হলে সর্বোচ্চ সাত কার্যদিবসের মধ্যে নতুন সভাপতি নির্বাচনের বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে।

সভাপতির যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে

২০২৫ সালের সংশোধিত প্রবিধানমালায় সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত নতুন প্রবিধানেও একই যোগ্যতা বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক হবে।

কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক বা কর্মচারী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না। একই ব্যক্তি একই ধরনের দুটির বেশি এবং মেয়াদভিত্তিক ধরনের তিনটির বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না—এমন বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে।

গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নেও পরিবর্তন

গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রবিধানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের বিধান ছিল।

২০২৫ সালের সংশোধিত প্রবিধানে ক্ষেত্রমতো বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার বিধান আনা হয়। সেখানে সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক বা অধ্যাপক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তিদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের সুযোগ রাখা হয়।

২০২৬ সালের প্রস্তাবিত প্রবিধানে গভর্নিং বডির সভাপতি পদে সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নামের তালিকায় আগে বা পরে থাকার বিষয়টি কোনোভাবেই অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে না।

কমছে সভাপতির কিছু ক্ষমতা

খসড়া প্রবিধানমালায় ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির নির্বাচিত সভাপতির কিছু ক্ষমতা রহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা। পাশাপাশি একজন সভাপতি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগের বিধানেও পরিবর্তন

প্রস্তাবিত প্রবিধানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি সরকারের সিদ্ধান্ত ও বিধি অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী প্রধান ও কর্মচারী নিয়োগের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীদের পদোন্নতিও দেওয়া যাবে।

আগের সংশোধিত প্রবিধানে নতুন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবিত প্রবিধানে শিক্ষক নিবন্ধনপ্রাপ্ত প্রার্থীকে নিয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মচারীদের নিয়োগ বা পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত প্রবিধানমালার আরও কয়েকটি জায়গায় ‘শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান’ শব্দের পরিবর্তে নতুন পরিভাষা ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রোববারের সভায় অংশ নেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটি নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। এরপর শিক্ষামন্ত্রী অনুমোদন দিলে তা চূড়ান্ত করা হবে এবং পরে নীতিমালা আকারে জারি করা হবে। তাই এটি এখনই চূড়ান্ত হয়েছে বলা যাবে না; আলোচনার মাধ্যমে আরও সংশোধনী আসতে পারে।

এসি/আপ্র/১৪/০৯/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

প্রযুক্তি ও গবেষণাকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
১১ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি ও গবেষণাকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেবল তাত্ত্বিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশে আবদ্ধ না রেখে তা দেশের সাধারণ ম...

আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেলেন প্রফেসর ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুন কুমার
১০ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেলেন প্রফেসর ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুন কুমার

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সংগঠন আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির (এপিএস)...

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
১০ অক্টোবর ২০২৬

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা...

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ
০৯ অক্টোবর ২০২৬

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের তিন নেতা-কর্মী ও শহীদ জিয়া...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

অটোরিকশার দাবির পক্ষে বলা নেতার আছে ৭০০ বাহন

অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, জনগণের কাছে বারবার খোলস বদলে পার পাওয়া যাবে না। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারে জুলাইয়ের চিত্রাঙ্কন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাত শ অটোরিকশা থাকার অভিযোগকে কাল্পনিক, অসত্য ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চেয়েছে দলটি| প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রশাসক সত্য বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে