সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চালু করা না গেলে দেশটির রপ্তানিযোগ্য তেলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এক ধাক্কায় প্রায় ৪ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক বাজারের তেল ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। খবর রয়টার্সের।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকার কারণে এরই মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপও তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের সরবরাহ আরো কমে গেলে সংকট আরো গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে সৌদি আরব প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাত। সাম্প্রতিক ক্ষতির কারণে পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইয়ানবু বন্দরে বর্তমানে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালিয়ে যাওয়ার মতো তেল মজুত রয়েছে।
শিল্পখাতের তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মিসরের আইন সুখনা ও সিদি কেরি বন্দরে সৌদি আরবের কিছু তেল মজুত রয়েছে। তবে পাইপলাইনটি সচল না হলে এসব মজুতও দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে।
রয়টার্স জানিয়েছে, পাইপলাইনটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। একটি সূত্রের দাবি, মেরামতের কাজ শেষ করতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে অন্য একটি সূত্র বলছে, এর আগেই আংশিকভাবে পাইপলাইনে তেল সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। এ বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, সামুদ্রিক রুট অবরুদ্ধ হওয়া ও অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে গত আগস্টে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ প্রায় তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন ছিল ১০৯ লাখ ব্যারেল। আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬২ লাখ ব্যারেলে।
সংস্থাটির হিসাবে, সামগ্রিকভাবে চলতি বছর বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ৫৭ লাখ ব্যারেল বা ৬ শতাংশ তেলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এসি/আপ্র/১৪/০৯/২০২৬