ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে এক দিনেরও কম সময়ে অন্তত ১৪১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত তায়েজ, হোদাইদা ও লোহিত সাগর উপকূলের বিভিন্ন ফ্রন্টে এই সংঘর্ষ হয়।
সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর দুই সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর থেকে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর পর্যন্ত সরকারি বাহিনীর অন্তত ৮৪ সৈন্য নিহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই রকেট হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানান তারা।
অন্যদিকে, চারটি হুথি সূত্রের দাবি, একই সময়ে তাদের ৫৭ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। উভয় পক্ষের এসব দাবির হিসাবে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪১।
দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক ফ্রন্টে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে হঠাৎ করে লড়াই ব্যাপক বেড়েছে। বিশেষ করে তায়েজ ও হোদাইদা প্রদেশ এবং লোহিত সাগর উপকূলবর্তী এলাকায় সংঘর্ষ তীব্র আকার নিয়েছে।
রোববার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, হোদাইদার দক্ষিণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাইস জেলার নিয়ন্ত্রণ হুথিদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করেছে তারা। হোদাইদা, তায়েজ ও ইব্ব প্রদেশের সংযোগকারী সড়কের কাছে অবস্থিত হাইস জেলার কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা পার্শ্ববর্তী আল-জারাহি জেলাতেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং সেখানে বেশ কয়েকজন হুথি যোদ্ধাকে আটক করেছে। তায়েজ ও লাহজের আশপাশেও সংঘর্ষ ও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তায়েজ ও হোদাইদায় হুথিদের অবস্থান, যানবাহন ও সমাবেশ লক্ষ্য করে শুক্রবার অন্তত ১৫টি বিমান হামলা চালানো হয়। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা কৌশলগত সমুদ্রপথ বাব-এল-মানদেব প্রণালির দিকে হুথিদের বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার পর এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে সামরিক সূত্র জানিয়েছে।
আবারও বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি
নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যেও আতঙ্ক ও বাস্তুচ্যুতি বাড়ছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর জানিয়েছে, তায়েজে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর মাত্র দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
২০১৪ সালে ইরান-সমর্থিত হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সেখান থেকে বিতাড়িত করার পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইয়েমেনে সংঘাতের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। ওই অস্ত্রবিরতির আনুষ্ঠানিক মেয়াদ বছরের শেষ দিকে শেষ হয়ে গেলেও এর ফলে পরবর্তী কয়েক বছরে দেশটিতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আর ফিরে আসেনি।
তবে সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ইয়েমেনের একাধিক প্রদেশে নতুন করে সংঘর্ষ ও সামরিক অভিযান বেড়ে যাওয়ায় সেই আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে পড়ছে।
হুথিরা এখনো রাজধানী সানা এবং ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।
ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা মানবিক সংকট আরো গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র: এএফপি
সানা/আপ্র/৭/৯/২০২৬