মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিতে নিজেদের সক্ষমতা আরো বাড়াতে নতুন মহাকাশ একাডেমি গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই একাডেমিতে মহাকাশচারী, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ তৈরির পাশাপাশি মহাকাশ গবেষণা ও নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশ একাডেমি গঠনের উদ্যোগ অনুমোদন করেন। হিউস্টনের জনসন মহাকাশ কেন্দ্রে চন্দ্রাভিযান আর্টেমিস-২-এর চার নভোচারীকে সম্মান জানানোর অনুষ্ঠানে নতুন এই একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন তিনি।
ট্রাম্প জানান, নতুন একাডেমি যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনী, জাতীয় মহাকাশ সংস্থা এবং বেসরকারি মহাকাশযান শিল্পের প্রয়োজন মেটাতে দক্ষ জনবল তৈরি করবে। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সেখানে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হবে।
নতুন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সামরিক বিষয়কে একমাত্র গুরুত্ব দেওয়া হবে না। জাতীয় মহাকাশ সংস্থার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, একাডেমিটি মহাকাশ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এখানে প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি মহাকাশযান পরিচালনাকারী কর্মী এবং নভোচারীদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নভোচারীদের আবার চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে সেখানে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ, পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার এবং মহাকাশভিত্তিক অর্থনীতির সম্প্রসারণের মতো উদ্যোগও নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও নতুন আবিষ্কারের জন্য আরও অনেক মহাকাশ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
নতুন একাডেমি গঠনের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জ্যারেড আইজ্যাকম্যানকে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশ একাডেমিবিষয়ক রাষ্ট্রীয় কমিশনের প্রধান। একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ও কার্যক্রম এগিয়ে নেবে এই কমিশন।
এদিকে একই অনুষ্ঠানে চন্দ্রাভিযান আর্টেমিস-২-এর চার নভোচারীকে কংগ্রেসনাল মহাকাশ পদক অব অনার প্রদান করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সম্মাননা অনুষ্ঠানে নভোচারীরা ট্রাম্পকে একটি উড্ডয়ন পোশাকও উপহার দেন।
সূত্র: স্পেস ডটকম ও রয়টার্স
এসি/আপ্র/০১/০৯/২০২৬