বাংলাদেশে সুপরিচিত শজনে গাছকে অনেকে ‘অলৌকিক গাছ’ বলে থাকেন এর উচ্চ পুষ্টিগুণ ও বহুমুখী উপকারিতার কারণে। এবার নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, শজনে বীজের নির্যাস ট্যাপের পানি থেকে প্রায় ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করতে সক্ষম।
যুক্তরাজ্য ও ব্রাজিলের একদল বিজ্ঞানী দীর্ঘ এক দশক ধরে শজনে বীজ নিয়ে গবেষণা করেন। গবেষণায় দেখা যায়, এই বীজের নির্যাস পানিতে থাকা অতিক্ষুদ্র কণাকে একত্রিত করে জমাট বাঁধতে সহায়তা করে, যা পরে সহজেই ফিল্টার করে আলাদা করা যায়।
মাইক্রোপ্লাস্টিক অত্যন্ত ক্ষুদ্র কণা, যা মানুষের চুলের চেয়েও বহুগুণ ছোট এবং পানির মাধ্যমে খাদ্য, রক্ত ও বিভিন্ন অঙ্গে প্রবেশ করতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা জানান। ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ট্যাপের পানির বড় একটি অংশে এসব কণার উপস্থিতি রয়েছে।
গবেষণার অন্যতম লেখক ব্রাজিলের সাও পাওলো স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আদ্রিয়ানো গন আলভেস দোস রেইস জানান, পরীক্ষায় ব্যবহৃত মাইক্রোপ্লাস্টিকের আকার ছিল মানুষের চুলের পুরুত্বের চার ভাগের এক ভাগের সমান। ফলাফলে দেখা যায়, শজনে বীজের নির্যাস ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত এসব কণা অপসারণ করতে সক্ষম।
গবেষকেরা আরো বলেন, পানি পরিশোধনে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম সালফেট বা ফিটকিরির মতো রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে শজনে বীজের নির্যাস ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এতে অতিরিক্ত রাসায়নিকজনিত বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম, যা দীর্ঘমেয়াদে স্নায়বিক ক্ষতির সম্ভাবনাও হ্রাস করতে পারে।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩/৫/২০২৬