দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকদের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল তথ্য তৈরির প্রবণতা কমাতে তারা নতুন একটি যুগান্তকারী পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এই পদ্ধতির মাধ্যমে এআই এখন মানুষের মতো নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারবে এবং কোনো তথ্য না জানলে তা সরাসরি স্বীকার করতে শিখবে।
কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি–এর গবেষকেরা বলছেন, মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তৈরি এই পদ্ধতি এআইয়ের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে স্বয়ংচালিত যানবাহন ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি–এর মতো আধুনিক এআই মডেলগুলো অনেক সময় অজানা বিষয়ে অনুমানভিত্তিক উত্তর দিয়ে ভুল তথ্য তৈরি করে, যাকে গবেষকেরা ‘হ্যালুসিনেশন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর মূল কারণ হলো, এসব মডেল অজানা তথ্যের ক্ষেত্রে অজ্ঞতা স্বীকার করার বদলে অনুমান করে উত্তর দিতে বেশি আগ্রহী থাকে।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, নতুন পদ্ধতিতে এআই মডেলকে প্রথমেই কিছু এলোমেলো তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে এটি নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা পায়। এতে করে মডেলটির অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কমে আসে এবং ভুল তথ্য দেওয়ার প্রবণতাও হ্রাস পায়।
তাদের মতে, প্রচলিত প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে শুরুতেই তৈরি হওয়া ছোট ছোট ভুল পরবর্তীতে বড় সমস্যায় রূপ নেয়। কিন্তু নতুন ‘ওয়ার্ম আপ’ প্রক্রিয়ায় এআই শুরুতেই শিখে নেয় যে, সব বিষয়ে তার জানা নেই।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল নেচার মেশিন ইন্টেলিজেন্স-এ। গবেষকেরা মনে করছেন, এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে এআইকে আরো নির্ভুল, নিরাপদ এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করে তুলবে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১২/৫/২০২৬