বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্লাউডভিত্তিক অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ক্যানভাসের মূল প্রতিষ্ঠান ইনস্ট্রাকচারের ওপর ভয়াবহ সাইবার হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে প্রায় নয় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চরম নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে। এই হামলায় প্রায় ২৮ কোটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছে হ্যাকার গোষ্ঠী শাইনিহান্টার্স।
হ্যাকাররা দাবি করেছে, তারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। এতে নাম, ইমেইল ঠিকানা, শিক্ষার্থী আইডি এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের তথ্যও রয়েছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ পর্যন্ত তথ্য চুরি হয়েছে।
হ্যাকার গোষ্ঠী শাইনিহান্টার্স একটি আলটিমেটাম দিয়ে জানিয়েছে, ১২ মে’র মধ্যে যদি ইনস্ট্রাকচার তাদের সঙ্গে কোনো ‘মীমাংসা’ বা আলোচনায় না বসে, তবে চুরি করা সব তথ্য ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হবে। তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লগ-ইন পোর্টালেও বার্তা দিয়ে একই হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এই সাইবার হামলার কারণে বহু শিক্ষার্থী হঠাৎ করেই তাদের ক্যানভাস অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন। এরপরই তারা বুঝতে পারেন যে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এই হামলার শিকার হয়েছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন পোর্টাল সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়ে, ফলে পাঠদান কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই হামলার শিকার হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের অনলাইন পোর্টালে হ্যাকারদের বার্তা সরাসরি প্রদর্শিত হয়েছে, যেখানে তারা পুনরায় হামলার দাবি করে এবং তথ্য ফাঁসের হুমকি দেয়।
কোম্পানি ইনস্ট্রাকচার ইতোমধ্যে তথ্য চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, হ্যাকাররা ব্যবহারকারীদের মৌলিক তথ্য এবং অভ্যন্তরীণ বার্তা চুরি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে পাসওয়ার্ড, জন্মতারিখ বা আর্থিক তথ্য চুরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
হামলার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে জরুরি প্যাচ প্রয়োগ করা হয় এবং সাময়িকভাবে ক্যানভাস সেবা বন্ধ রাখা হয়।
নতুন করে হ্যাকাররা আবারো কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লগ-ইন পোর্টাল বিকৃত করে তাদের বার্তা প্রদর্শন করেছে বলে জানা গেছে। এতে করে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সংবাদমাধ্যমও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী শিক্ষা ব্যবস্থার ডিজিটাল নিরাপত্তার দুর্বলতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। এত বড় পরিসরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের তথ্য ফাঁসের হুমকি শিক্ষা খাতকে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
তারা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনই শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
বিশ্বজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন চরম উদ্বেগে রয়েছে। ১২ মে’র আলটিমেটাম ঘিরে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তথ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল একটি সাইবার হামলা নয়, বরং বৈশ্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর এক বড় ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা।
সানা/ডিসি/আপ্র/১০/৫/২০২৬