চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ শেষে মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে এক অনন্য ও বিচ্ছিন্ন রূপে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন নাসার আর্টেমিস-২ চন্দ্রাভিযানের নভোচারীরা। গভীর মহাকাশের অন্ধকারে পৃথিবীকে ‘লাইফবোট’-এর মতো নিঃসঙ্গভাবে ভাসমান দেখে তাঁরা মানবজাতির ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযান শেষে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চার নভোচারী তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তারা জানান, ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো মানুষবাহী মহাকাশযান চাঁদের চারপাশে ‘স্লিংশট’ কৌশলে ঘুরে এসেছে, যা মানব ইতিহাসে সবচেয়ে গভীর মহাকাশ ভ্রমণের মাইলফলক।
নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, পৃথিবীর চেয়ে বরং তাকে ঘিরে থাকা বিশাল অন্ধকারই তাকে বেশি বিস্মিত করেছে। সেই অন্ধকারের মধ্যে পৃথিবীকে তার কাছে নিঃশব্দে ঝুলে থাকা একটি লাইফবোটের মতো মনে হয়েছে।
মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও জেরেমি হ্যানসেনের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে ক্রিস্টিনা বিশ্ববাসীকে অভিন্ন মানবতার চেতনায় একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান। কানাডীয় নভোচারী হ্যানসেনও এই অভিযানের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ অনুভব করার কথা বলেন।
এই অভিযানে একাধিক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে চাঁদের চারপাশ ভ্রমণ করেছেন, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী হিসেবে এ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নভোচারী হিসেবে এতে অংশ নিয়েছেন।
অভিযান চলাকালে নভোচারীরা হাজার হাজার ছবি ধারণ করেন এবং সূর্যগ্রহণ ও চাঁদের পৃষ্ঠে উল্কাপাতের মতো বিরল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন।
নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এই মিশনকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি মানবজাতিকে আবারো মহাকাশ অনুসন্ধানে আস্থা ফিরিয়ে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতের অভিযানের পথ উন্মুক্ত করেছে।
আর্টেমিস-২ কর্মসূচি নাসার চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি গড়ে তোলার পরিকল্পনার প্রথম মানববাহী ধাপ। ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে চাঁদে ঘাঁটি স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে। সংস্থাটি আশা করছে, ২০২৮ সালের মধ্যে আবারো চাঁদের মাটিতে মানুষের পদচারণা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১২/৪/২০২৬