দীর্ঘ ৩৪ বছরের কর্মজীবনের ইতি টানছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের নির্বাহী জুলিয়া লিউসন। আগামী জুনে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি, তবে পরবর্তীতে কোম্পানির উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত থাকবেন।
১৯৯২ সালে মাইক্রোসফটে কর্মজীবন শুরু করেন লিউসন। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দিয়েছিলেন বর্তমান প্রধান নির্বাহী সাত্যিয়া নাদেলাও। ‘এক্সেস ডেটাবেইস’-এর একজন ডেভেলপার হিসেবে যাত্রা শুরু করা লিউসন পরবর্তীতে কোম্পানির ডেভেলপার ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট হন এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট টুল খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
মাইক্রোসফটের ‘ভিজুয়াল স্টুডিও’র মতো জনপ্রিয় টুল তৈরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি। এছাড়া কোম্পানির ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রথম নারী কর্পোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও ইতিহাস গড়েন লিউসন।
২০২১ সাল থেকে ডেভেলপার ডিভিশনের নেতৃত্ব দিয়ে আসা এই নির্বাহী বর্তমানে জে পারিখের অধীনে কাজ করছিলেন, যিনি মেটার সাবেক কর্মকর্তা এবং ২০২৪ সালে মাইক্রোসফটে যোগ দেন। সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানির কোর এআই প্ল্যাটফর্ম ও টুল গ্রুপ পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই লিউসনের বিদায়কে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে মাইক্রোসফটের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘কারসার’-এর মতো স্টার্টআপ জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে ডেভেলপারদের কোড লেখায় সহায়তা দিচ্ছে, যা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এদিকে মাইক্রোসফটও ‘গিটহাব কোপাইলট’-এর মতো এআইনির্ভর সেবার মাধ্যমে ডেভেলপারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। চলতি বছরের শুরুতে নাদেলা জানান, এ সেবার গ্রাহক সংখ্যা ৪৭ লাখে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
২০১৮ সালে ৭৫০ কোটি ডলারে ‘গিটহাব’ অধিগ্রহণের পর থেকে ডেভেলপার ইকোসিস্টেমে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করেছে মাইক্রোসফট। গত বছর গিটহাবের প্রধান নির্বাহী পদত্যাগের পর প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা লিউসনের অধীনে কাজ করছিলেন।
বিদায়ের আগে কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বার্তায় লিউসন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করা এবং কাজের চাপ কমানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে।
মাইক্রোসফটের এক মুখপাত্র তার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ডেভেলপার ও গ্রাহকদের জন্য কোম্পানির কৌশল অপরিবর্তিত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও এআইকেন্দ্রিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।
সানা/আপ্র/১০/৪/২০২৬