জাপানের একদল গবেষক একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত (এআই) রোবট ভিক্ষু তৈরি করেছেন। টোকিও উইকেন্ডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মযাজক ও উপাসক সংকটে পড়া বৌদ্ধমন্দিরগুলোকে সহায়তা দিতে এই রোবট তৈরি করা হয়েছে।
কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান টেরাভার্স ও এক্সনোভার সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সম্প্রতি কিয়োটোর শোরেন-ইন মন্দিরে এটি উন্মোচন করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘বুদ্ধারয়েড’ নামের এই রোবট মানব ভিক্ষুর মতো আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার মতো করে নকশা করা হয়েছে। এটি বুদ্ধাবট–প্লাস নামের একটি সিস্টেমে পরিচালিত হয়, যা চ্যাটজিপিটি থেকে তৈরি একটি এআই মডেল এবং বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের ওপর বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত।
রোবটটির নির্মাতারা জানিয়েছেন, এর ফলে রোবটটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক নানা প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দিতে সক্ষম।
রোবটটির শারীরিক নড়াচড়া ইউনিট্রি রোবটিকসের তৈরি হার্ডওয়্যার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এটি একজন ভিক্ষুর শান্তভঙ্গি অনুকরণে নকশা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রণাম এবং ঐতিহ্যবাহী গাশশো ভঙ্গি প্রদর্শন, যেখানে প্রার্থনার ভঙ্গিতে দুই হাতের তালু একসঙ্গে জোড়া লাগানো হয়।
গবেষকদের মতে, এই প্রকল্প জাপানের পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতার একটি বাস্তবসম্মত প্রতিক্রিয়া। দেশটিতে দ্রুত জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় অনুরাগও কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানের প্রায় ৩০ শতাংশ বৌদ্ধমন্দির বন্ধ হয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে উত্তরাধিকারী পাওয়া কঠিন।
জাপানে ধর্ম ও রোবোটিকসের মিশেলের ধারণা একেবারে নতুন নয়। ২০১৯ সালে কোডাই-জি মন্দির পরিচয় করায় মিন্ডার নামের একটি রোবটের, যা দেবতা কানন বোধিসত্ত্বের ভূমিকা পালন করেছিল।
রোবট নির্মাতারা আশা করছেন, এই রোবট ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এমন উপস্থিতি ও সান্ত্বনার অনুভূতি দেবে, যা কেবল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম দিয়ে সম্ভব নয়।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৮/২/২০২৬