দাঁত পড়ে গেলে কৃত্রিম প্রতিস্থাপন বা ফিলিংয়ের ওপরই এখন নির্ভর করতে হয়। কিন্তু ভবিষ্যতে সেই বাস্তবতা বদলে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা এমন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন, যার মাধ্যমে মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত দাঁত মেরামত করা বা নতুন দাঁত প্রাকৃতিকভাবেই গজিয়ে তোলা সম্ভব হতে পারে।
পুনরুৎপাদনশীল চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই গবেষণা সফল হলে দন্তচিকিৎসায় আসতে পারে যুগান্তকারী পরিবর্তন। তখন কৃত্রিম উপাদান দিয়ে দাঁত মেরামত বা দাঁত তুলে ফেলার পরিবর্তে শরীরের নিজস্ব কোষ ব্যবহার করেই নতুন দাঁত তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। খবর বিবিসি’র।
বিজ্ঞানবিষয়ক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর স্টেম সেল অ্যান্ড রিজেনারেটিভ মেডিসিনের গবেষকেরা এ নিয়ে কাজ করছেন। গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী পরিচালক ও জীবরসায়নবিদ হ্যানেল রুওহোলা-বেকার।
গবেষকদের মতে, বর্তমানে দাঁত হারানোর চিকিৎসা পুরোপুরি স্থায়ী বা শতভাগ কার্যকর নয়। অন্যদিকে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ দন্তচিকিৎসকের কাছে যেতে ভয় পান। দাঁতে ড্রিল করা, ফিলিং করা কিংবা অন্যান্য চিকিৎসা নিয়ে আতঙ্কের কারণে অনেকে নিয়মিত দাঁতের যত্নও এড়িয়ে যান।
হ্যানেল রুওহোলা-বেকার জানান, প্রতিদিনই তাঁর কাছে অসংখ্য মানুষ বার্তা পাঠান। তাঁদের অনেকেই প্রচলিত চিকিৎসার পরিবর্তে পরীক্ষামূলক নতুন পদ্ধতিতেও অংশ নিতে আগ্রহী, যদি তাতে প্রাকৃতিকভাবে দাঁত ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
গবেষকেরা বর্তমানে ‘জীবন্ত ফিলিং’ তৈরির ধারণা নিয়ে কাজ করছেন। আক্কেল দাঁত নিয়ে গবেষণার সময় তাঁরা দেখতে পান, দাঁতের এনামেল তৈরির বিশেষ কোষ দাঁত পুরোপুরি গজানোর পর আর সক্রিয় থাকে না। ফলে দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীর স্বাভাবিকভাবে নতুন এনামেল তৈরি করতে পারে না।
এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে গবেষকেরা স্টেম সেলকে বিশেষ রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে এনামেল তৈরিকারী কোষে রূপান্তর করছেন। পরীক্ষাগারে এসব কোষ একত্র করে তাঁরা একটি **দাঁতের ক্ষুদ্র জীবন্ত কাঠামো** তৈরি করেছেন, যা নিজ থেকেই এনামেল প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে।
গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে এই এনামেল প্রোটিন ব্যবহার করে আরো কার্যকর ফিলিং তৈরি করা কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত দাঁতের ওপর বিশেষ প্রলেপ দেওয়া সম্ভব হবে। তবে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আরো বড়-পরীক্ষাগারেই সম্পূর্ণ একটি নতুন দাঁত তৈরি করা, যা একদিন মানুষের মুখে প্রতিস্থাপন করে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁত হারানো শুধু মুখের সৌন্দর্য নয়, মানুষের খাবার চিবানো, কথা বলা, পুষ্টি গ্রহণ এবং মানসিক সুস্থতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমনকি বিভিন্ন গবেষণায় দাঁত হারানোর সঙ্গে নানা জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা ও অকাল মৃত্যুঝুঁকির সম্পর্কও উঠে এসেছে।
তাই গবেষকদের এই প্রচেষ্টা সফল হলে তা শুধু দন্তচিকিৎসায় নয়, পুনরুৎপাদনশীল চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসেও নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। সূত্র: বিবিসি
সানা/আপ্র/২৩/৭/২০২৬