প্রচণ্ড গরমে বাইরে মাত্র কয়েক মিনিট থাকাও কখনো কখনো হয়ে উঠতে পারে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে গেলে দেখা দিতে পারে হিট স্ট্রোক, যা সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে প্রাণঘাতীও হতে পারে। অনেকেই বিষয়টিকে হালকাভাবে নেন, কিন্তু কিছু সাধারণ ভুল এবং অসচেতনতা থেকেই তৈরি হয় বড় বিপদ। তাই আগে থেকেই সতর্ক থাকা এবং সঠিক করণীয় জানা অত্যন্ত জরুরি। জেনে নিন-কীভাবে সহজ কিছু উপায়ে নিজেকে এবং পরিবারের সবাইকে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখা যায়।
হিট স্ট্রোক কী: হিট স্ট্রোক হলো এমন একটি গুরুতর অবস্থা যেখানে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এবং স্বাভাবিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। সাধারণত দীর্ঘ সময় তীব্র গরমে থাকা বা গরম পরিবেশে কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের কারণে এটি ঘটে।
হিট স্ট্রোকের সময় শরীরে কী ঘটে: অতিরিক্ত তাপের প্রভাবে প্রথমে তাপজনিত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে, যা ধীরে ধীরে তাপ ক্র্যাম্প এবং পরে হিট স্ট্রোকে রূপ নিতে পারে। দীর্ঘ সময় গরমে থাকলে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি বা তার বেশি হয়ে যায়, যাকে হাইপারথার্মিয়া বলা হয়। এটি হিট স্ট্রোকের সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়।
এই অবস্থায় লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে-
অস্বাভাবিক আচরণ বা বিভ্রান্তি
অতিরিক্ত ঘাম
বমি ভাব বা বমি
লালচে ত্বক
দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস
দ্রুত হৃৎস্পন্দন
তীব্র মাথাব্যথা
হিট স্ট্রোক একটি জরুরি চিকিৎসা অবস্থা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল, পানিশূন্যতা, খিঁচুনি, অজ্ঞান হওয়া এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে:
শিশু ও বয়স্ক (বিশেষত ৬৫ বছরের বেশি)
যারা দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করেন বা কঠোর পরিশ্রম করেন
হৃদরোগ বা ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণকারী (যেমন: রক্তচাপ, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বা ঠান্ডা-কাশির ওষুধ)
হিট স্ট্রোকের লক্ষণগুলো কীভাবে বুঝবেন?
পেশীতে খিঁচুনি
অতিরিক্ত ঘাম
তীব্র দুর্বলতা
বিভ্রান্তি বা অস্থিরতা
মাথাব্যথা
বমি
দ্রুত হৃৎস্পন্দন
গাঢ় রঙের প্রস্রাব
ফ্যাকাসে ত্বক
হিট স্ট্রোক হলে কী করবেন?
লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত এই পদক্ষেপগুলো নিন-
রোগীকে ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যান
অপ্রয়োজনীয় বা ভারী পোশাক খুলে দিন
ভিড় এড়িয়ে চলুন, একজন সহায়তাকারী থাকলেই যথেষ্ট
শরীর দ্রুত ঠান্ডা করার চেষ্টা করুন (প্রয়োজনে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল বা স্পঞ্জ করা, কপাল, ঘাড়, বগল ও কুঁচকিতে ভেজা কাপড় বা বরফ প্রয়োগ)
অবস্থা গুরুতর মনে হলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিন।
হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয় (গ্রীষ্মকালীন টিপস)
ঢিলেঢালা, হালকা ও হালকা রঙের পোশাক পরুন
প্রচুর ঠান্ডা পানি বা তরল পান করুন
অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন (এটি শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে)
শসা, তরমুজ, ডালিম ও কলার মতো পানিসমৃদ্ধ খাবার খান
তীব্র গরমে ভারী ব্যায়াম বা কাজ এড়িয়ে চলুন
সম্ভব হলে সাঁতার বা পানিতে ব্যায়াম করুন
বাইরে থাকলে নিয়মিত ছায়ায় বিশ্রাম নিন
শুধু ফ্যান নয়, খুব গরমে এয়ার কন্ডিশনিং বেশি কার্যকর
টুপি, সানগ্লাস ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
শিশু বা কাউকে গাড়িতে একা ফেলে রাখবেন না (৫-১০ মিনিটের জন্যও নয়)
ঠান্ডা জায়গা থেকে হঠাৎ গরমে গেলে শরীরকে সময় দিন মানিয়ে নিতে
ঝুঁকিতে থাকলে কাছাকাছি চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত রাখুন
তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক
সানা/আপ্র/৭/৫/২০২৬