একই জমিতে একসঙ্গে তিন ধরনের ফসল চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের কৃষি উদ্যোক্তা মুসলিম উদ্দীন। উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নে ৩৩ শতক জমিতে সর্জন পদ্ধতিতে পেঁপের পাশাপাশি মরিচ ও কচু চাষ করে এরই মধ্যে লাভবান হয়েছেন তিনি। তার এই উদ্যোগে আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয় অন্য কৃষকেরাও।
মুসলিম উদ্দীনের জমিতে সারি সারি পেঁপে গাছ। গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা পেঁপে। পেঁপে গাছের সাথে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা হয়েছে বারোমাসি মরিচ। আর জমির নিচু নালায় রোপণ করা হয়েছে কাঠকচু। ফলে একই জমি থেকে তিনটি ফসল উৎপাদন করছেন তিনি।
কৃষক মুসলিম উদ্দীন জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা নিয়ে ৩৩ শতক জমিতে সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, এবার ৫ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন। এরই মধ্যে ১ লাখ টাকা বিক্রি হয়েছে। জমির উঁচু বেডে পেঁপে, বেডের দুপাশে মরিচ এবং নিচু নালায় কচু চাষ করছেন। মরিচ ও কচু বিক্রি করে ভালো আয় হয়েছে। পেঁপের ফলনও ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটি জমিতে তিনটি ফসল চাষ করতে পারায় উৎপাদন খরচ কমছে এবং জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে ভালো ফলন পাওয়ায় আমি খুবই আশাবাদী।’
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘মিরসরাই উপজেলায় সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য চারটি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম উদ্দীনের জমিও একটি। তিনি পেঁপের সঙ্গে সহফসল হিসেবে মরিচ ও কচু চাষ করছেন।’ তিনি বলেন, ‘সর্জন পদ্ধতিতে নিচু জমিকে উঁচু করে বেড তৈরি করা হয় এবং মাঝখানে নিচু নালা রাখা হয়। এতে বেডে বিভিন্ন সবজি বা ফসল এবং নালায় কচু ও মাছ চাষের সুযোগ থাকে। একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন হওয়ায় কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জমিরও সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।’
মুসলিম উদ্দীনের এই উদ্যোগ দেখে মিরসরাইয়ের অন্য কৃষকেরাও সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হবেন বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
কেএমএএ/আপ্র/২৫.০৯.২০২৬