গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

মেনু

আর্থিক সংকটে ঘাটাইলের সম্ভাবনাময় জৈব সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান

জেলা প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল

জেলা প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১৯:৪৬ পিএম, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:০২ এএম ২০২৬
আর্থিক সংকটে ঘাটাইলের সম্ভাবনাময় জৈব সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান
ছবি

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

মোঃ আকরাম হোসেন, টাঙ্গাইল: রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে মাটির উর্বরতা রক্ষা ও পরিবেশবান্ধব কৃষি গড়ে তুলতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ট্রাইকো-কম্পোস্ট ও ভার্মি-কম্পোস্ট উৎপাদন করছে ‘মেসার্স চায়না এগ্রো ফার্ম’। মানসম্মত জৈব সার উৎপাদন ও বাজারজাত করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সাড়া ফেললেও আর্থিক সংকটে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

ঘাটাইল উপজেলার ১৩ নম্বর লক্ষিন্দর ইউনিয়নের সিকদারবাড়ি-উত্তর লক্ষিন্দর (মুরাইদ) এলাকার বাসিন্দা হযরত আলী ও মাজেদা আক্তারের ছেলে উদ্যোক্তা সেলিম মিয়া এবং তার স্ত্রী মোছাঃ চায়না যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। ট্রেড লাইসেন্স বুক নম্বর ০১ এবং লাইসেন্স নম্বর ২৮-এর আওতায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় কৃষি খাতে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জৈব সার উৎপাদন: প্রতিষ্ঠানটিতে ল্যাব-পরীক্ষিত উপাদানসমৃদ্ধ ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসযুক্ত ক্যালসিয়াম কার্বোনেট পাউডার, ট্রাইকো-কম্পোস্ট এবং ভার্মি-কম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরি করা হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, এসব জৈব সার ব্যবহারে মাটির আর্দ্রতা ও উর্বরতা ধরে রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এসব সার সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সোসাইটি ফর সোশ্যাল সার্ভিস’ (এসএসএস) সহযোগিতা করছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত ‘সাসটেইনেবল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন’ (স্মার্ট) প্রকল্পের আওতায় এটি একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ।

সহায়তা বন্ধ, কমেছে উৎপাদন: উদ্যোক্তারা জানান, আগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিভিন্ন সময়ে অনুদান ও সহযোগিতা পেলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি সংকটে পড়েছে। ফলে জৈব সারের উৎপাদন কমেছে এবং স্থানীয় কৃষকদের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সেলিম মিয়া ও মোছাঃ চায়না বলেন, “মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং কৃষকদের হাতে ল্যাব-পরীক্ষিত বিষমুক্ত জৈব সার পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। উপজেলা কৃষি অফিসের কারিগরি দিকনির্দেশনা এবং আগের মতো সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারব।”

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, এ প্রতিষ্ঠানের জৈব সার ব্যবহারে ফসলের রোগবালাই কম হচ্ছে এবং কম খরচে বেশি ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তাঁরা আর্থিক সংকট কাটাতে ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশাসনিক সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটি ঘাটাইলে পরিবেশবান্ধব কৃষির একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠতে পারে।

যোগাযোগ: মেসার্স চায়না এগ্রো ফার্ম, সিকদারবাড়ি-উত্তর লক্ষিন্দর, ডাকঘর: লক্ষিন্দর-১৯৮৪, উপজেলা: ঘাটাইল, জেলা: টাঙ্গাইল। মোবাইল: ০১৭৩৩৭৫৯০৭১।


কেএমএএ/আপ্র/০৮.১১.২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

মাজরা ও কারেন্ট পোকার আক্রমণে বিপাকে আমন চাষিরা
০৮ নভেম্বর ২০২৬

মাজরা ও কারেন্ট পোকার আক্রমণে বিপাকে আমন চাষিরা

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আমন ধান ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণে কৃষক দিশেহারা...

আর্থিক সংকটে ঘাটাইলের সম্ভাবনাময় জৈব সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান
২৬ অক্টোবর ২০২৬

আর্থিক সংকটে ঘাটাইলের সম্ভাবনাময় জৈব সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান

মোঃ আকরাম হোসেন: রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে মাটির উর্বরতা রক্ষা ও পরিবেশবান্ধব কৃষি গড়ে তুলতে টাঙ্...

প্রযুক্তির অগ্রগতিতেও ঘটাতে পারেনি কৃষকের সব সংগ্রামের অবসান
২৫ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তির অগ্রগতিতেও ঘটাতে পারেনি কৃষকের সব সংগ্রামের অবসান

বাংলাদেশের কৃষি এখন আর কেবল লাঙল, গরু ও প্রচলিত কৃষি জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল নয়। আধুনিক জাত, যান্ত্রিক...

ফলনের তুলনায় লাউ-পেঁপের পড়তি দামে কৃষকের উঠছে না খরচ
২৫ অক্টোবর ২০২৬

ফলনের তুলনায় লাউ-পেঁপের পড়তি দামে কৃষকের উঠছে না খরচ

লাউয়ের বাগানে ফলন হয়েছে প্রচুর, পেঁপে গাছেও ঝুলছে পাকা ফল। কিন্তু কৃষকের মুখে হাসি নেই। বাজারে ক্রেত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

গণহত্যাকারীদের আর রাজনীতি করতে দেবে না জনগণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে গণহত্যা, হত্যাকাণ্ড ও আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে জনগণ আর রাজনীতি করতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এবং এখনো নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ না করা ব্যক্তিরা বাংলাদেশে ফিরে রাজনীতি করতে পারবেন না। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভায় আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরী মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলন ও দস্তারবন্দী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, মন্ত্রীর এই বক্তব্য সঠিক বলে মনে করেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে