রাজধানীতে বাসে অগ্নিসংযোগ ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভাটারার ১০০ ফিট সড়কে জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। একই সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের অন্তত ছয়টি স্থানে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় নগরজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাটারার ১০০ ফিট সড়কে স্কুলের বাসটিতে আগুন লাগে। স্কুলটির পরিবহন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, সড়কের পাশে চারটি বাস পার্কিং করা ছিল। দুর্বৃত্তরা এর একটিতে গানপাউডার দিয়ে আগুন দেয়। এতে বাসটি পুড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভাটারা থানার উপপরিদর্শক দেবাশিস রায় জানান, বাসে আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ঘটনার বিস্তারিত তখনো জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, কারা এবং কীভাবে আগুন দিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় কয়েক মিনিটের ব্যবধানে অন্তত ছয়টি স্থানে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, টিএসসির মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে, সিনেট ভবনের কাছে, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সামনে, ইউল্যাব স্কুলের সামনে, নীলক্ষেত মোড় ও নীলক্ষেত তোরণের কাছে বিস্ফোরণগুলো ঘটে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, টিএসসি মেট্রো স্টেশনের নিচে বিস্ফোরণের পরপরই শিক্ষার্থীরা দুজনকে আটক করে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন জানান, নীলক্ষেত মোড় থেকেও পরে একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক তিনজনকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা হলেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিলকাঠোর মধ্যপাড়া এলাকার রেজাউল করিম (৪২), রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজার খুটিপাড়া এলাকার সোহেল রানা (৩৩) এবং গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কচাপাড়া এলাকার নাজমুস সাদ (৩৩)। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের নিউ মার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাসিম এ-গুলশান জানান, নীলক্ষেত এলাকার মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে রিকশাযোগে এসে কয়েকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যান।
রাজধানীতে গত কয়েক দিন ধরেই বাসে অগ্নিসংযোগ ও বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। শনিবার রাতে মিরপুরে বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে এবং এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর মহাখালী বাস টার্মিনালে সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অন্তত আটটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
রোববার মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর লক্ষ্য জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও নাশকতা চালানো। প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে; তাঁদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন ও অঙ্গসংগঠনের সদস্য রয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। তিনি জানান, গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও পিকেট ডিউটি জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের কাজও চলছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৮/১১/২০২৬