দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩৩৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬২ জনে। এর মধ্যে নভেম্বরের প্রথম আট দিনেই মারা গেছেন ৪২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোববারের (৮ নভেম্বর) বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মারা গেছেন দুজন। চলতি বছর এ বিভাগে মোট ৬১ হাজার ৩৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২ হাজার ৭২৮ জন।
রোগী শনাক্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা বিভাগ। চলতি বছর এ বিভাগে ২২ হাজার ৩৫১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৩৩২ জন। এ বিভাগে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৮৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় অন্যান্য বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে ২৭২ জন, বরিশালে ২৩২ জন, রাজশাহীতে ২১৩ জন, রংপুরে ৭৫ জন, ময়মনসিংহে ৭০ জন এবং সিলেটে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১৩ জনে। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৮৯ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬ হাজার ৬৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪২০ জন। শুধু অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৭৪ জন, আর সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন। নভেম্বরের প্রথম আট দিনে আরো ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই বছর ডেঙ্গুতে মারা যান সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জন। গত বছর এ রোগে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের বেশি।
সানা/আপ্র/৮/১১/২০২৬