বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতি এবার একসঙ্গে ছুঁয়ে গেছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন ও কূটনৈতিক শীর্ষমঞ্চকে। ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে ঘিরে ফিফার পোস্ট থেকে শুরু করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ভিডিও-সবখানেই জায়গা করে নিয়েছে বাংলা লোকগান ও আধুনিক সুরের মিশ্রণ।
ফিফার ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিওনেল মেসির একটি ছবি পোস্ট করে বাংলা ভাষায় ক্যাপশন ব্যবহার করা হয়, যেখানে বলা হয়-“কি জাদু করিয়া মেসি মায়া লাগাইছে!” এই বাক্যটি বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের জনপ্রিয় গান থেকে অনুপ্রাণিত বলে জানা যায়। এই পোস্ট ঘিরে বিশ্বজুড়ে বাঙালি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক কোনো ক্রীড়া সংস্থার পোস্টে বাংলা লোকগানের ছোঁয়া বিশ্বমঞ্চে বাংলা সংস্কৃতির উপস্থিতিকে আরো দৃশ্যমান করেছে। কাতার বিশ্বকাপসহ সাম্প্রতিক সময়ে বাঙালি দর্শকদের আবেগ ও ফুটবলভিত্তিক উন্মাদনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের সাংস্কৃতিক সংযোজনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সরকারি ভিডিওতেও ব্যবহার করা হয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদের গান ‘মহা জাদু’। প্রায় দুই মিনিট চল্লিশ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা ও আনুষ্ঠানিক নানান মুহূর্ত তুলে ধরা হয়।
গানটি মূলত লোককবি খোয়াজ মিয়ার রচনা, যা পরবর্তীতে আধুনিক সংগীতে নতুনভাবে জনপ্রিয় করে তোলেন হাবিব ওয়াহিদ। ভিডিওতে গানটির ব্যবহারকে দুই দেশের সম্পর্কের সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
এই বিষয়ে হাবিব ওয়াহিদ বলেন, বিষয়টি তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তার ভাষায়, এটি তার জন্য সম্মানজনক একটি স্বীকৃতি, বিশেষ করে একটি রাষ্ট্রীয় সফরের অফিসিয়াল ভিডিওতে তার সংগীত ব্যবহৃত হওয়ায় তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার পোস্ট থেকে শুরু করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ভিডিও-দুটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট হলেও উভয় ক্ষেত্রেই বাংলা গানের ব্যবহার প্রমাণ করছে, সংস্কৃতি এখন আর কেবল বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি হয়ে উঠছে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের এক শক্তিশালী মাধ্যম।
খেলাধুলা থেকে রাষ্ট্রীয় সফর-সবখানেই এখন যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে এক অভিন্ন সুর, বাংলা গানের মায়া ও সাংস্কৃতিক প্রভাব।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৪/৬/২০২৬