চলচ্চিত্র ‘কাজল রেখা’র পর ফের রঙিন পর্দায় হাজির হচ্ছেন তিনি। না, নাটক নয়, চলচ্চিত্রও নয় ফ্লাশ ফিকশন নিয়ে এলেন জনপ্রিয় নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম।
‘পথের প্যাঁচাল’ নামে এ ফ্ল্যাশ ফিকশন মুক্তি পাবে ৬ মে রাত ১২টায় ওটিটি প্লাটফর্ম চরকিতে। পথের সঙ্গে জীবনের মিল খোঁজার চেষ্টা করেন অনেকে, রূপক অর্থে। আর করবেনই বা না কেন—জীবন যেমন অনিশ্চিত, পথও তেমনই অনিশ্চয়তায় ভরা।
যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে অপ্রত্যাশিত কিছু। জীবনের প্রয়োজন, আকাঙ্ক্ষা একজনকে কখন, কোথায়, কীভাবে নিয়ে যায়, তা কে বলতে পারে! আবার এই পথেই ঘটে যায় এমন কিছু ঘটনা, যা বদলে দিতে পারে একজনের জীবন।
এমন ভাবনা থেকে নির্মিত ‘পথের প্যাঁচাল’-এ অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান, বহ্নি হাসান, মনির হাসান খান শিমুল, অশোক বেপারী, প্রণব ঘোষ এবং সানজিদা ইয়াসমিন স্নিগ্ধা।
২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় চরকির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ পেয়েছে ফ্ল্যাশ ফিকশনটির পোস্টার। ‘পথের প্যাঁচাল’ নাম শুনলেই মনে পড়ে কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়-এর কালজয়ী চলচ্চিত্র পথের পাঁচালী-র কথা।
তবে নির্মাতা নিশ্চিত করেছেন, নামের সাদৃশ্য থাকলেও গল্প বা ভাবনায় এর সঙ্গে কোনো মিল নেই। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের একটি গল্প।
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র বায়েজিদ, একজন অটোরিকশাচালক। তার প্রতিদিনের জীবন রিকশার চাকার মতোই ঘুরতে থাকে। একদিন অপ্রত্যাশিতভাবে তার জীবনে প্রবেশ করে উমা—একজন নবীন ঔপন্যাসিক, যে নিজের প্রথম উপন্যাস প্রকাশের চেষ্টা করছে।
ভিন্ন সামাজিক অবস্থানের এই দুই মানুষের আন্তঃসম্পর্ক ও কথোপকথনই ‘পথের প্যাঁচাল’-এর মূল উপজীব্য। এতে বায়েজিদ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান এবং উমা চরিত্রে বহ্নি হাসান।
গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, “জীবন মানেই এক দীর্ঘ পথ এবং এই পথে তৈরি হয় অসংখ্য গল্প। এই ফিকশনে কিছু বিষয় অন্য দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করেছি।
এখানে দুই শ্রেণির দুই মানুষের কথা আছে। শ্রেণি-আলোচনা ও অনুভূতির বয়ান রয়েছে। অনেকে একে ‘অসম’ কিছু ভাবতে পারেন, তবে আমি একে বলব সহজ-সরল সম্পর্ককে মানবিকভাবে দেখার চেষ্টা। সামাজিক ট্যাবুর বাইরে গিয়ে সম্পর্কের এক মানবিক রূপ এখানে ফুটে উঠবে।”
গল্পের ধারণা নিয়ে ইয়াশ রোহান বলেন, “এটা একটা ট্যালেন্টের গল্প। ট্যালেন্ট এমন একটি জিনিস, যা কখন, কোথায়, কীভাবে প্রকাশ পাবে, তা কেউ জানে না। এই গল্পটাও তেমনই।” অটোরিকশা চালানোর অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
পরে কখনও বলব।” শিপ্রা দেবনাথ-এর গল্পে ‘পথের প্যাঁচাল’-এর চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম।
আলফা-আই এবং চরকির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে এটি। ফিরে আসি ফ্ল্যাশ ফিকশন প্রসঙ্গে, এটি মূলত জীবনের কিছু মুহূর্তের নান্দনিক ও সিনেম্যাটিক উপস্থাপন। একে ‘স্লাইস অব লাইফ’ বা জীবনের টুকরো গল্পও বলা যায়।
ব্যাপ্তিতে ছোট হলেও অনুভূতিতে তা গভীর। চরকি জানিয়েছে, ফ্ল্যাশ ফিকশন তাদের অরিজিনাল কনটেন্ট নয়। এর আগে চরকি ফ্ল্যাশ ফিকশন হিসেবে মুক্তি দিয়েছে খুব কাছেরই কেউ, গ্যারাকল, অন্ধ বালক, পারফেক্ট ওয়াইফ, থার্সডে নাইট এবং টিফিন বক্স। সবগুলোই দেখা যাচ্ছে চরকিতে।
ডিসি/আপ্র/৩০/০৪/২০২৬