পুরুষদের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতার পর এবার বাস্তবের আরো কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে এক গবেষণায় জানা গেছে। বিজ্ঞানীরা হরমোনমুক্ত একটি নতুন বড়ি উদ্ভাবন করেছেন, যা প্রাথমিক পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই সহনীয় বলে প্রমাণিত হয়েছে।
প্রায় ১৭০ বছর ধরে পুরুষদের জন্য অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণের একমাত্র মাধ্যম ছিল কনডম। তবে নতুন এই আবিষ্কার জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন ওষুধটি ‘ওয়াইসিটি-৫২৯’ নামের, যা শুক্রাণু উৎপাদন ও নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কাজ করে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৩২ থেকে ৫৯ বছর বয়সী ১৬ জন সুস্থ পুরুষের ওপর এর প্রভাব পরীক্ষা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের দীর্ঘমেয়াদি প্রজনন সক্ষমতা ঝুঁকিতে না ফেলতে কেবল যাদের পূর্বে ভ্যাসেকটমি করা হয়েছিল, তাদেরই এই পরীক্ষায় রাখা হয়।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, বড়িটি গ্রহণের পর অংশগ্রহণকারীদের হৃদস্পন্দন, রক্তের মান কিংবা টেস্টোস্টেরনের মাত্রায় কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। গবেষকরা জানান, এটি পুরুষদের যৌন ইচ্ছা বা মানসিক অবস্থার ওপরও কোনো প্রভাব ফেলে না।
গবেষণার প্রধান লেখক নাদজা মানোওয়েটজ বলেন, পুরুষদের জন্য এই বড়িটি নারীদের প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির তুলনায় ভিন্ন এবং তুলনামূলকভাবে কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত।
পূর্ববর্তী প্রাণী পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওষুধটি প্রয়োগ বন্ধ করার পর স্বাভাবিক প্রজনন সক্ষমতা ফিরে আসে এবং দীর্ঘমেয়াদে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব থাকে না।
বর্তমানে গবেষকরা এর গর্ভধারণ প্রতিরোধের কার্যকারিতা আরো গভীরভাবে যাচাই করছেন। তবে তারা স্পষ্ট করেছেন, অন্যান্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মতো এটিও যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বড়ির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর গ্রহণযোগ্যতা। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আকাশ বক্সী বলেন, পুরুষরা দায়িত্ব ভাগ করে নিতে আগ্রহী হলেও দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছে কার্যকর ও সহজ বিকল্পের অভাব ছিল। নতুন এই উদ্ভাবন সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারে।
সব মিলিয়ে, সফল হলে এই পুরুষ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বৈশ্বিক জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩০/৪/২০২৬