মিয়ানমারের আটক সাবেক নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চির কারাদণ্ড আরেক দফা কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী দলের এক সদস্য। রাষ্ট্রীয় ক্ষমার অংশ হিসেবে এবার তার সাজা ছয় ভাগের এক ভাগ হ্রাস করা হয়।
এ নিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার তার সাজা কমানো হলো। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে বন্দি থাকা সু চির বর্তমান কারাদণ্ড এখন ১৮ বছরের সামান্য বেশি বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী, যিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
দুর্নীতি, নির্বাচনে জালিয়াতি উসকে দেওয়া, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দীর্ঘ বিচার শেষে প্রথমে তাকে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তা কমিয়ে ২৭ বছর করা হয়। সর্বশেষ মিয়ানমারের নববর্ষ উপলক্ষে ১৭ এপ্রিল আবারো ছয় ভাগের এক ভাগ কমানো হয়।
এরপর বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, সব বন্দির সাজা কমানো হয়েছে। সেই ঘোষণার পরই সু চির সাজা নতুন করে ১৮ বছরের কিছু বেশি নির্ধারিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তার আইনজীবী।
বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী সু চিকে কোথায় রাখা হয়েছে তা জানা যায়নি। বিচার চলাকালে তাকে সর্বশেষ প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তাকে অজ্ঞাত স্থানে বন্দি রাখা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত সরকারের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সু চির স্থলাভিষিক্ত মিন অং হ্লাইং বর্তমানে দেশটির নেতৃত্বে রয়েছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চাপের মুখে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জোরালো হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোটও এ বিষয়ে চাপ অব্যাহত রেখেছে।
এর মধ্যেই মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ জানায়, সু চির অবস্থান ভালো আছে এবং তার বিষয়ে ‘ভালো কিছু’ বিবেচনা করা হচ্ছে, তবে সেই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩০/৪/২০২৬