আউটডোরে শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রের পানিতে ডুবে কলকাতার অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ‘অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন’। এছাড়া রাহুল যে ধারাবাহিকে কাজ করছিলেন, সেটির প্রযোজনা সংস্থাকে কালোতালিকাভুক্ত করারও দাবি উঠেছে। কলকাতার বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশন ‘স্টার জলসা’য় প্রচারে আসা ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকে চিকিৎসক চরিত্রে অভিনয় করছিলেন রাহুল। এই ধারাবাহিকের বিশেষ দৃশ্যের শুটিংয়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গের দিঘাসংলগ্ন তালসারি সমুদ্রসৈকতে যায় টিম। সেখানে রোববার শুটিংয়ের শেষে সমুদ্রে নেমে তলিয়ে যান রাহুল। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
যদিও অভিনেতার মৃত্যুতে এখনও পর্যন্ত একাধিক প্রশ্নের উত্তর অধরা। ইউনিটের সদস্যদের বয়ানের সঙ্গে পুলিশের হাতে আসা শুটিংয়ের ভিডিও থেকে পাওয়া তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে ‘অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের’ অভিযোগ হল, ‘শুটিং টিমের গাফিলতির কারণেই’ বেঘোরে প্রাণ হারিয়েছেন রাহুল।
তাই ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের বিরুদ্ধে ‘খুনে’র অভিযোগে মামলা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সিরিয়ালের সঙ্গে যুক্ত প্রযোজক, প্রযোজনা সংস্থা এবং চ্যানেলকেও কালো তালিকাভুক্ত করার দাবি তুলেছে সংগঠনটি। প্রযোজনা সংস্থার পক্ষে থেকে রাহুলের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলেও জানিয়েছে ‘অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন’। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও তুলেছে সর্বভারতীয় সিনে ওয়ার্কাস সংগঠন।
‘অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের’ অফিশিয়াল এক্সে সোমবার দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি তোলার পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বিবৃতিতে সংগঠনটি বলছে, “এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং কাঠামোগত ব্যর্থতা। প্রযোজনা সংস্থার গাফিলতিতেই মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার।
আমাদের সংগঠনের তরফে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে যে, প্রযোজনা সংস্থা এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষ খরচ কমানোর জন্য প্রায়শই শিল্পীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আপস করে থাকে। ফলত, কর্মী ও শিল্পীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রায় প্রতিবছরই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের সিনেজগতের এহেন দুর্ঘটনা ঘটে।
“যেখানে অনিরাপদ কাজের পরিবেশের কারণে টেকনিশিয়ান, সাধারণ কর্মী এবং শিল্পীদের প্রাণহানি ঘটে। তবে দুর্ভাগ্যবশত, এই ধরনের ঘটনাগুলো প্রায়শই ধামাচাপা দেওয়া হয় এবং দোষীদের শাস্তির উদাহরণও অত্যন্ত বিরল। সেই প্রেক্ষিতেই রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি জানাচ্ছে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন।”
ডিসি/আপ্র/৩১/০৩/২০২৬