গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

মিশ্র পদ্ধতিতে ক্লাসে নির্দেশনা চান শিক্ষকরা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৩৪ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০০:১৩ এএম ২০২৬
মিশ্র পদ্ধতিতে ক্লাসে নির্দেশনা চান শিক্ষকরা
ছবি

ফাইল ছবি

জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য সামনে রেখে রাজধানীর নির্বাচিত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও সশরীরে উপস্থিতির সমন্বয়ে মিশ্র পদ্ধতিতে শ্রেণিকার্যক্রম চালুর সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে দেখছেন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা। তবে এ পদ্ধতি কার্যকর করতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মিশ্র পদ্ধতির উদ্যোগ নেয়। এ প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, নির্বাচিত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে এ পদ্ধতি চালু হবে।

মন্ত্রী জানান, রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে এবং শনি, সোম ও বুধবার শিক্ষার্থীরা সরাসরি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকবে। তবে কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ব্যবস্থা চালু হবে, তা পরে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেই অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করতে হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। তাদের ভাষ্য, একযোগে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালু করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হতো। তবে পরীক্ষামূলক ফলাফল পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে দেশের আর্থসামাজিক বৈষম্যের বিষয়টি বিবেচনায় এনে অনেকেই সতর্ক করছেন, শহর ও গ্রামের মধ্যে সুযোগের ব্যবধানের কারণে এ পদ্ধতি সর্বত্র কার্যকর নাও হতে পারে। তাই জাতীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকদের একটি বড় অংশ অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার পদ্ধতি, মূল্যায়ন এবং সময়সূচি নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা চেয়েছেন। বিশেষ করে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইন ক্লাস কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

এছাড়া মিশ্র পদ্ধতিতে সপ্তাহে ছয় দিন শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হতে পারে—এমন আশঙ্কায় কিছু প্রতিষ্ঠানের অনীহা তৈরি হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন শিক্ষকরা।

একই সঙ্গে অনলাইনে ক্লাসের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভাইস নির্ভরতা ও আসক্তি বাড়ার ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। অভিভাবকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীরা ডিভাইস ব্যবহারে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় শিক্ষাব্যবস্থাকে অভিযোজিত করার এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, যদিও এর সফল বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সানা/আপ্র/১০/৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা
১৭ অক্টোবর ২০২৬

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা

যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে ‘সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল’ স্থাপন করা সম্ভব, সেসব প্রতিষ্ঠানের ছাদের প...

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির সভাপতি সুমন, সম্পাদক শিবলী
১৭ অক্টোবর ২০২৬

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির সভাপতি সুমন, সম্পাদক শিবলী

মাহফুজ আলম সোহাগ, জাবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির (বাপাজস) ২০২৭-২০২৮ মে...

রক্তের বিনিময়ে শিক্ষার অধিকার, আজ ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবস
১৭ অক্টোবর ২০২৬

রক্তের বিনিময়ে শিক্ষার অধিকার, আজ ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবস

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক ও শ...

অপরাধের ভিডিও করায় সাংবাদিককে হুমকি, ফোন থেকে ভিডিও মুছল শিক্ষার্থীরা
১৬ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধের ভিডিও করায় সাংবাদিককে হুমকি, ফোন থেকে ভিডিও মুছল শিক্ষার্থীরা

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংঘর্ষ ও মারধরের ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকের ম...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বের অন্য কোথাও নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে যখন হানাহানি ও হিংসার আগুন জ্বলছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষ্যে ঢাকার রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে