আবু তাহের, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর কমিটির দুই যুগ্ম আহ্বায়ককে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদ ও এ এস এম সানোয়ার রাব্বী প্রমিসের বিরুদ্ধে।
গত ৭ জুলাই এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৬৮ সদস্যবিশিষ্ট নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। কমিটি প্রকাশের পরপরই দুই নেতার অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইন অনুষদ কমিটিতে সহসভাপতি পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ। একই কমিটিতে উপক্রীড়া সম্পাদক পদে ছিলেন এ এস এম সানোয়ার রাব্বী প্রমিস।
তবে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ওই সময় আওয়ামী লীগের প্রভাবের কারণে ক্যাম্পাস ও হলের পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। পরিস্থিতির কারণে তৎকালীন ছাত্রলীগের কিছু কর্মসূচিতে উপস্থিতি বা সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে তা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল না।
তোফায়েল বলেন, “আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ছাত্রত্ব চলে গেলে আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যেত। অনেক সময় জোর করে বা পারিপার্শ্বিক চাপে কর্মসূচিতে ডাকা হতো, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানেন। তবে ২০২২ সাল, ২০২৪ সাল এবং এর আগেও প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে।”
অন্যদিকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সানোয়ার রাব্বী। তিনি দাবি করেন, ২০২২ সালের ছাত্রলীগের ওই কমিটিতে আইন অনুষদের অনেক শিক্ষার্থীর নাম তাদের না জানিয়েই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
সানোয়ার রাব্বী বলেন, “আমি কখনো ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। এমনকি আমার কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ছবিও কেউ দেখাতে পারবেন না। অনিচ্ছাকৃতভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আমি বিভাগকেও জানিয়েছিলাম। জুলাই আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাস করেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি এবং ভবিষ্যতেও কাজ করে যাব।”
এ বিষয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, কমিটি গঠনের আগে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তাদের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং অতীতে ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “অনেক শিক্ষার্থীই সে সময় বাধ্যতামূলকভাবে ছাত্রলীগের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। বিষয়গুলো যাচাই করেই তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কারও বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সঙ্গে প্রকৃত সম্পৃক্ততার তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সানা/আপ্র/১৯/৭/২০২৬