স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারের পর নিজেদের ফেসবুক পেজে সাইবার হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চ্যানেল ওয়ান জানায়, গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় তাদের ওয়ান বুলেটিনে ‘নীতি-নৈতিকতা ভেঙে সরকারের সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর ব্যবসা; তিনটি মন্ত্রণালয়ে ঠিকাদারি’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করা হয়।
চ্যানেল ওয়ানের দাবি, ওই প্রতিবেদনে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে মীর শাহে আলমের ঠিকাদারি কাজের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব কাজের মধ্যে তার নিজ মন্ত্রণালয়ের কাজও রয়েছে এবং প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাজ নিয়েছেন।
চ্যানেল ওয়ান জানায়, প্রতিবেদনে এসব কর্মকাণ্ডকে সংবিধান ও নীতিবহির্ভূত বলে উল্লেখ করে আইনবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে।
চ্যানেল ওয়ানের প্রধান সম্পাদক নাজমুল আশরাফ শনিবার বলেন, “ঘটনাটি সত্য। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকেই আমরা একের পর এক সাইবার হামলার শিকার হচ্ছি।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চ্যানেল ওয়ান অভিযোগ করে, প্রতিবেদনটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের পর তাদের ফেসবুক পেজে ধারাবাহিকভাবে সাইবার হামলা চালানো হয়। ‘আনন্দবার্তা’ ও ‘আলি খান’ নামে দুটি পেজ থেকে ভুয়া কপিরাইট দাবির মাধ্যমে প্রতিবেদনটি ব্লক করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
চ্যানেল ওয়ানের ভাষ্য, “নিজস্ব প্রতিবেদনের কপিরাইট অন্য কাউকে দেওয়া এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেদনটি ব্লক হওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক। এর পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে আমরা মনে করি।”
প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, সংঘবদ্ধভাবে ভুয়া কপিরাইট দাবি করে শুধু প্রতিবেদনই নয়, এ-সংক্রান্ত সংবাদ কার্ডও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এরপর রাতভর বট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে চ্যানেল ওয়ানের বিভিন্ন কনটেন্টে রিপোর্ট করা হয়।
চ্যানেল ওয়ানের অভিযোগ, মীর শাহে আলম সম্পর্কিত নতুন কোনো পোস্ট প্রকাশ করা হলেই ফেসবুকে রিপোর্ট করা হচ্ছে। ভুয়া কপিরাইট অভিযোগের মাধ্যমে কয়েকটি প্রতিবেদন, সংবাদ কার্ড এবং ফেসবুক পেজের প্রোফাইল ও প্রচ্ছদ ছবিতেও বাধা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ছিল চ্যানেল ওয়ানের ফেসবুক পেজ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া। শনিবার বিকালে সাইবার হামলা-সংক্রান্ত সংবাদটিও ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
চ্যানেল ওয়ান কর্তৃপক্ষ বলেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ে করা প্রতিবেদনটি সাংবাদিকতার নিয়ম ও নীতি-নৈতিকতা অনুসরণ করেই তৈরি করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, “প্রতিবেদনটির বিষয়ে কারও কোনো বক্তব্য থাকলে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রচলিত পথে না গিয়ে সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
এ ধরনের আচরণের নিন্দা জানিয়ে চ্যানেল ওয়ান বলেছে, তাদের ফেসবুক পেজের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ফিরে পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৬ বছর বন্ধ থাকার পর গত ২৭ এপ্রিল পুনরায় সম্প্রচারে আসে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান। ২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল তৎকালীন সরকারের সময় চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৮/৭/২০২৬