কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আচরণবিধিতে নতুন বিধান সংযোজনের দাবি জানিয়েছে দলটি।
সম্প্রতি ইসির জ্যেষ্ঠ সচিবকে দেওয়া এক চিঠিতে জামায়াতে ইসলামী এই প্রস্তাব জানায়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে হবে।
জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের শনিবার বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের কোনো পর্যায়ের নেতার স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। ইসিকে দেওয়া চিঠিতে দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে আরো কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, নির্বাচন কমিশন এসব বিষয় বিবেচনা করবে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করায় গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি।
আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে সরকার। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগের নেতারা এতে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এর আগে জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংলাপে যাচ্ছে না ইসি। তবে নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়া তৈরি করে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত চাওয়া হয়েছে। সেই মতামত জানাতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের নেতাদের অংশগ্রহণ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে।
জামায়াতের অন্যান্য প্রস্তাব: জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী আচরণবিধিতে আরো কয়েকটি পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-নির্বাচনী প্রচারে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে যুক্ত করা। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রশাসনে নিয়োজিত কোনো প্রশাসক বা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতার পাশাপাশি প্রার্থীর আপিলের সুযোগ রাখা, নির্বাচনী ক্যাম্প বা কার্যালয়ে এলইডি ডিসপ্লে, প্রজেক্টর ও ল্যাপটপ ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবও দিয়েছে দলটি। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি আচরণবিধিতে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে জামায়াত।
দলটির দুটি বিশেষ প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে-ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত নারী সদস্যপদ বাতিল করে প্রতিটি ওয়ার্ডে নারী সদস্য পদে সরাসরি নির্বাচন এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে ভোটার নির্ধারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৮/৭/২০২৬